kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ভিনধর্মে আপত্তি নেই দুই পরিবারের, যোগি রাজ্যে বিয়ে বন্ধ করল পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৪:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিনধর্মে আপত্তি নেই দুই পরিবারের, যোগি রাজ্যে বিয়ে বন্ধ করল পুলিশ

প্রতীকী ছবি

'লাভ জেহাদ’ থামাতে ভারতের উত্তরপ্রদেশে সদ্য জারি হয়েছে ধর্মান্তরিতকরণ বিরোধী অধ্যাদেশ। ওই আইনে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয় বরেলীর ২১ বছর বয়সী ওয়াইস আহমেদকে। 

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিয়ের আসরে ঢুকে শুভ কাজ থামিয়ে দিল পুলিশ।

পুলিশ বলছে, বাড়ির লোকদের সম্মতিতেই গত বুধবার বিয়ের আয়োজন করেছিল রায়না গুপ্ত (২২) ও মুহাম্মদ আসিফের (২৩) পরিবার। 

কিন্তু নতুন অধ্যাদেশ মেনে কিছু আইনি প্রক্রিয়া তারা সম্পূর্ণ করেননি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দুই পরিবারকে বিষয়টি বোঝালে তারা বিয়ে পিছিয়ে দিয়ে আইনি পদ্ধতি মেনে পরে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন না করে ‘স্পেশাল ম্যারেজ’ আইনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা বিয়ে করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। 

কিন্তু কেউ ধর্ম পরিবর্তন করতে চাইলে বিয়ের ৬০ দিন আগে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একটি নির্দিষ্ট ফরম জমা দিতে হবে। কোনো চাপ, প্রলোভন বা উস্কানির কারণে যে কেউ ধর্ম পরিবর্তন করছেন না, সে কথা জানিয়ে বিয়ের ছয় মাসের মধ্যে আরেকটি ফরম জমা দিতে হবে। 

পুলিশের জানিয়েছে, রায়না ও আসিফ বিষয়টি জানতেন না। তবে ওই দিনের ঘটনায় কোনো অভিযৈাগ দায়ের করা হয়নি।

অন্য দিকে নতুন আইনে গ্রেপ্তার হওয়া যুবক ওয়াইস আহমেদের বাবা ৭০ বছর বয়সী মুহাম্মদ রফিক পুলিশের বিরুদ্ধেই দুই পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন। 

বরেলীর পুলিশ আগে জানিয়েছিল, ধর্ম পরিবর্তন করে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল ওয়াইস। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি তরুণীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তরুণীর বাবার অভিযোগ, তার পরই চাপ দিতে শুরু করে ওই যুবক।

ওয়াইসের বাবা পাল্টা দাবি করেন, পুলিশি চাপের মুখে পড়েই তরুণীর পরিবার অভিযোগ দায়ের করেছে। রফিকের আরও অভিযোগ, ছেলের খোঁজে এসে তাকে মারধর করেছে পুলিশ। 

রফিক সাংবাদিকদের বলেছেন, লাভ জেহাদের অভিযোগ শুধু দুঃখজনক নয়, ভয়েরও। মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিবাদ নেই। তারা ভালো মানুষ।

ওয়াইসের গ্রেপ্তারির খবরে বিস্মিত তাদের প্রতিবেশীরাও। গ্রামপ্রধান ধ্রুব রাজ জানান, এপ্রিল মাসেই দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি ‘মিটমাট’ হয়ে গিয়েছিল। তবে তরুণীর পরিবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের নতুন এই অধ্যাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে দু’টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারীদের আবেদন, ওই আইনে ব্যক্তি পরিসর এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা