kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনাযুদ্ধে নিজেদের সফল দাবি করল মোদি সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাযুদ্ধে নিজেদের সফল দাবি করল মোদি সরকার

ফাইল ফটো

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার তাদের বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে ভারত করোনা প্রতিরোধে সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে। মোদির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারত কেবল ভ্যাকসিন গবেষণায় বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে না, সেইসাথে বিশ্বের ভ্যাকসিন উৎপাদনে ভারত খুব গুরুত্বপূর্ণ রাখছে বলে দাবি ভারত সরকারের।

সম্প্রতি করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তৃত পর্যালোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের তিন শহর সফর করেছেন। তিনি আহমেদাবাদের জাইডাস বায়োটেক পার্ক, হায়দ্রাবাদের ভারত বায়োটেক এবং পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে দুটি সাইটে ভারত দেশীয়ভাবে কোভিড ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করছে এবং অন্য সাইটে কোটি কোটি টিকা তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্বের ১০০টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের ৪ ডিসেম্বর পুনে সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং জেনোভা বায়ো ফার্মাসটিক্যালস লিমিটেড সফর করবেন। বিভিন্ন দেশ কীভাবে মহামারীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তখন প্রতিটি দেশের মোট সংক্রমণের সংখ্যার দিকে লক্ষ্য করলে তা সহজেই বোঝা যায়। তবে কোনও দেশের পারফরম্যান্সের প্রকৃত পরিমাপ হল প্রতি মিলিয়নে আক্রান্ত মানুষ এবং মৃত্যুর সংখ্যা। ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৭৩১ জন। বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি মিলিয়নে ৪০ হাজার জন, যুক্তরাজ্যে ২৩ হাজার ৪৫৬ জন, ফ্রান্সে ৩৩ হাজার ৪২৪ জন, ব্রাজিলের ২৯ হাজার ১২৯ জন এবং ইতালিতে ২৫ হাজার ৪৫৬ জন। এই দেশগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতি মিলিয়নে আক্রান্তের হার ভারতের তুলনায় প্রায় ৪-৫ গুণ।

বর্তমানে ভারতে সংক্রমণ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাঝামাঝিতে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে দৈনিক আক্রান্ত ছিল প্রায় ৯৭,৮৯৪ সেখানে ২৬ নভেম্বর এই সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার ১৭৪ জন। দৈনিক সংক্রমণের ভিত্তিতে ৭ দিনের চলমান গড়ের সাথে বিবেচনা করলে দেখা যায় (২৫ নভেম্বর পর্যন্ত) ভারতে সংক্রমণ নিম্নমুখী।

ভারতে করোনা থেকে সুরক্ষায় যথাসম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহাবিপর্যয় হওয়ার আগেই এই মহামারী ঠেকানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ভারত সরকারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। চীন ৭ জানুয়ারিতে উহান ভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করেছিল। পরের দিনই ৮ জানুয়ারি ভারত একটি মিশন সভা করেছিল। ভারত ১৭ জানুয়ারি থেকে যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। এক্ষেত্রেও বিশ্বে সর্বপ্রথম দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারত। ৩০ জানুয়ারি ভারতে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয় এবং তারপর সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়।

অন্যদিকে, আরটি-পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট প্রবর্তনকারী দেশ হিসেবে ভারত ছিল প্রথম। এই কৌশলটির জন্য প্রথমে ভারত সমালোচিত হলেও পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিজেই এই মডেলটি গ্রহণ করেছে।

ভারতের বেশিরভাগ অংশেই এপ্রিলের প্রথম দিকে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, মোদি নিজেই এপ্রিলের শুরু থেকেই প্রকাশ্যে মাস্ক পরেছিলেন যেখানে বিশ্বব্যাপী মাস্ক সুপারিশ করার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা