kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার মতো জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি : মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল

অনলাইন ডেস্ক   

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার মতো জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি : মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম পি. বার। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যেসব অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার সপক্ষে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার।

দেশটির প্রধান এই আইন কর্মকর্তা বলেন, 'এখন পর্যন্ত আমরা এমন জালিয়াতির প্রমাণ দেখতে পাইনি, যা নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে।' পরাজয় স্বীকার না করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য তাঁর এই অবস্থানকে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

একদিকে যখন জো বাইডেনের বিজয়ের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, তখন পরাজিত হওয়া রাজ্যগুলোয় একের পর এক মামলা করে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জো বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি। পপুলার ভোট পাওয়ার দিক থেকে ট্রাম্পের চেয়ে ৬২ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন বাইডেন।

তবে ০৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একের পর পর এক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যখন উইলিয়াম বারের এই ঘোষণা এলো, তখনো ট্রাম্প কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই টুইটারে আবারও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন।

নির্বাচন নিয়ে একটি দাবি করা হয়েছে, ভোটিং মেশিনগুলো হ্যাক করে এমনভাবে প্রগ্রামিং করা হয়েছে যে সেটি ভোটের ফলাফল পাল্টে জো বাইডেনের পক্ষে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সেই দাবির প্রসঙ্গে উইলিয়াম বার বলেছেন, 'বিচার বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই দাবি তদন্ত করে এখন পর্যন্ত এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।'

গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখার জন্য তিনি নির্দেশনা দেন।

বার বলছিলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে সব কিছু সমাধানের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। কেউ যদি কিছু পছন্দ না করে, তখন তারা চায় যে বিচার বিভাগ এসে সেটার তদন্ত করতে শুরু করুক।'

উইলিয়াম বারকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম মিত্র বলে মনে করা হয়। তাঁর এই মন্তব্যের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণাশিবিরের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি এবং জেনা এলিস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, 'অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, অনিয়মের এবং পদ্ধতিগত জালিয়াতির যথেষ্ট প্রমাণের ব্যাপারে সেটা নিয়ে তদন্ত বা জ্ঞান ছাড়াই তিনি মতামত দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।'

উইলিয়াম বারের এই মন্তব্যের পর সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, 'আমার ধারণা, এর পরে তিনিই হয়তো বরখাস্ত হতে চলেছেন।'

এর আগে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে 'অত্যন্ত ভুল' মন্তব্য করার জন্য সাইবার সিকিউরিটি এবং ইনফ্রাসট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিসা) প্রধান ক্রিস ক্রেবসকে বরখাস্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা