kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বেলোচিস্তানে অধ্যাপক নিখোঁজ, গুম করে দেওয়ার আরেক ঘটনা?

অনলাইন ডেস্ক   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেলোচিস্তানে অধ্যাপক নিখোঁজ, গুম করে দেওয়ার আরেক ঘটনা?

পাকিস্তানের বেলোচিস্তানের খুজদার জেলায় গিয়ে অধ্যাপক লিয়াকত সানি ব্যাংগুলজাই নিখোঁজ হয়ে গেছেন। গত শনিবার তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো দুই শিক্ষক নিখোঁজ হয়ে যান।

অন্য দুই শিক্ষক- অধ্যাপক শাব্বির শাহওয়ানি ও অধ্যাপক নিজাম শাহওয়ানি'কে পরবর্তী সময়ে কনক এলাকার কুয়েত্তা-টাফটান মহাসড়কে খুঁজে পাওয়া যায়। তবে লিয়াকত সানিকে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বেলোচিস্তান ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক কাজে কুয়েত্তা থেকে ড. লিয়াকত সানি এবং আরো দুই অধ্যাপক খুজদারে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা খুজদারে পৌঁছানোর আগেই মাসটাং এলাকায় অচেনা অস্ত্রধারী তাদের পথ রোধ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের নিয়ে যায়।

মাসটাং জেলার পারিঙ্গাবাদ থেকে তাদের ব্যবহারের সেই গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য দুই শিক্ষককে পাওয়া গেছে কনক এলাকায়। রাজ্য সরকারের মুখপাত্র এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, বেলোচিস্তান ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক নিখোঁজ রয়েছেন। মাসটাং এলাকার আশেপাশে থেকে দু'জন অধ্যাপককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অধ্যাপক লিয়াকত সানি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে নিরাপদে দ্রুত উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত আছে।

তিনি আরো বলেন, মাসটাং জেলার স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজ ওই অধ্যাপককে খুঁজে বের করতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার অবস্থান শিগগিরই শনাক্ত করা যাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য খুজদার যাওয়ার পথে অধ্যাপক লিয়াকত সানিকে অপহরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন 
বেলোচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. কালিমুল্লাহ বারেক। অবিলম্বে তাকে খুঁজে বের করার দাবি জানান বারেক। সেই সঙ্গে তিনি আরো জানান, নিজেদের কর্মসূচি সম্পর্কে শিগগিরই জানাবে বেলোচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন।

লিয়াকত সানি নিখোঁজের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন মানবাধিকার অ্যাক্টিভিস্ট গুলালাই ইসমাইল। এ নিয়ে আরো অনেকেই টুইট করেছেন।

পাকিস্তানে বলপূর্বক নিখোঁজ রাখার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকারকর্মী, সখ্যালঘুদের পক্ষের লোক, সরকার ও সেনাবাহিনীর সমালোচকদের এভাবে গুম করে দেওয়া হয়। এমনকি বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সন্দেহেও গুম করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

বেলোচিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বহুবার অভিযান চালিয়েছে। আর সেসবে অপরাধীদেরই সমর্থন দেওয়ার ঘটনা ঘটার অভিযোগ রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বেলোচিস্তানের বহু রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট, বুদ্ধিজীবী, নারী ও শিশু গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে যাদের অনেকের লাশ নির্জন এলাকায় পাওয়া গেছে।

সূত্র : এএনআই

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা