kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

'ভোট বিশেষজ্ঞ' প্রশান্তে 'অশান্ত' মমতার তৃণমূল!

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ভোট বিশেষজ্ঞ' প্রশান্তে 'অশান্ত' মমতার তৃণমূল!

ছবির সূত্র: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা।

প্রশান্ত কিশোর ভারতের রাজনীতিতে একজন ভোট বিশেষজ্ঞ বলে খ্যাতি পেয়েছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যখন ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনভার গ্রহণ করে তখন থেকে বেশ আলোচিত হতে দেখা যায় এই প্রশান্ত কিশোরের নাম। কিন্তু ভোটকুশলী বলে খ্যাতি পাওয়া এই প্রশান্ত কিশোর এবার পশ্চিমবঙ্গে সুখ্যাতি হারাতে বসেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের একের পর এক নেতা তার প্রতি প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ফলশ্রুতিতে, চারদিকে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূল কংগ্রেসে অশান্তির মূল কারণ কি তিনি?

প্রশান্ত কিশোর এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন দলের হয়ে কাজ করেছেন। এ তালিকায় সর্বভারতীয় কংগ্রেস, বিজেপি থেকে শুরু করে বর্তমানে কারান্তরীণ বর্ষীয়ান নেতা লালু প্রসাদ যাদব প্রতিষ্ঠিত বিহারের রাষ্ট্র্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং হালের তৃণমূল কংগ্রেস পর্যন্ত অনেক জায়গায়ই কাজ করেছেন এই কুশলী। গুজরাট বিধানসভায় নরেন্দ্র মোদির উত্থান থেকে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত, প্রশান্ত কিশোর বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে সংঘাত বাড়ছে এবং দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ ও বিধায়করা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দল পরিচালনায় প্রশান্তের কৌশল নিয়ে। রাজ্য সরকারের একজন শীর্ষ মন্ত্রী ও মমতার এক সময়ের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারীও প্রশান্ত কিশোর ইস্যুতেই দলত্যাগের পথে রয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

গত দুদিন আগে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কোচবিহার অঞ্চলের একজন বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এ রকম আরও কয়েকজন বিধায়ক রয়েছেন যারা এখন প্রকাশ্যে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকার সমালোচনা করছেন। ক্ষুব্ধ নেতারা বলছেন, প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে দল চলতে পারে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একটি দল এভাবে চলতে পারে না বলেও মত অনেকের। প্রশান্ত কিশোরের 'ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি'কে 'কর্পোরেট কায়দা' বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।

২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে, তৃণমূল কংগ্রেসে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত দলটিকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এদিকে, গত লোকসভায় দলের বিপর্যয় হওয়ার পর তা সামাল দিতে প্রশান্ত কিশোরকে আনার ফর্মুলা প্রকৃতপক্ষে দলটির জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে কি না সেটাই এখন বেশি আলোচিত হচ্ছে। প্রশান্ত কিশোরের ক্যারিয়ারে তাকে কেন্দ্র করে এমন প্রকাশ্য বিরোধের নজির নেই বলেই মনে করা হয়। সব কিছু ছাপিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, মমতার দলে অব্যাহত বিপর্যয়ে তিনিই নেপথ্যে কি না। সূত্র: ডয়েচেভেল।         

    

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা