kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

স্কটল্যান্ডেই প্রথম বিনা মূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে নারীদের

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ১২:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্কটল্যান্ডেই প্রথম বিনা মূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে নারীদের

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য বিনা মূল্যে সরবরাহে আইন পাস করেছে স্কটল্যান্ড সরকার। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে ‘পিরিয়ড প্রডাক্টস (ফ্রি প্রভিসন) বিল’ পাস হয়।

এ আইনের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করবে যে এখন থেকে যদি কারো ঋতুস্রাবকালীন কোনো পণ্যের (যেমন- তুলা ও স্যানিটারি প্যাড) প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি যেন সেগুলো বিনা মূল্যে ও সহজে সংগ্রহ করতে পারেন। বিলটি উত্থাপন করেন স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মনিকা লেনন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি মেয়েদের ‘পিরিয়ড পোভার্টি’ দূরীকরণে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

মনিকা লেনন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এর আগে তৈরি সব আইনের মতোই এটি পাস করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কারণ মহামারির কারণে মেয়েদের ঋতুস্রাব থেমে থাকে না। এ ছাড়া এ সময় প্রয়োজনীয় তুলা, প্যাড ও অন্যান্য পণ্য সহজে পাওয়ার ব্যবস্থার বিষয়টি কখনোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি।

মেয়েদের ঋতুস্রাব সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় তুলা, প্যাড ও অন্যান্য পণ্য কিনতে যে খরচ, তা বহন করতে অনেক মেয়েকেই হিমশিম খেতে হয়। কারণ প্রতিটি দেশেই স্যানিটারি পণ্যের মূল্য বেশ চড়া, যার জন্য প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্ক খরচ করতে হয়।

দুই হাজার নারীর ওপর পরিচালিত ইয়ং স্কটের এক জরিপে দেখা গেছে, স্কটল্যান্ডের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য পেতে প্রতি চারজনে একজন ঝামেলায় পড়েন। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ১০ শতাংশ মেয়ের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ মেয়েকে এসব পণ্য পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং দামের কারণে ১৯ শতাংশ মেয়ে যথাযথ পণ্য ব্যবহার করতে পারেন না।

গবেষকরা বলছেন, তরুণীদের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৭১ শতাংশ মেয়ে ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বিব্রত বোধ করেন। গবেষকরা আরো বলছেন, মেয়েদের পড়াশোনার ওপর ঋতুস্রাব যে প্রভাব ফেলে, তা এ ধরনের আইন প্রতিরোধ করবে। কারণ, ঋতুস্রাবের সময় প্রায় অর্ধেক মেয়ে স্কুলে আসতে পারে না।

এর আগে গত বছর স্কুলে মেয়েদের বিনা মূল্যে স্যানিটারি পণ্য সরবারহের উদ্যোগ নেয় ইংল্যান্ড। চলতি বছরের প্রথম দিকে নিউজিল্যান্ডও একই পদক্ষেপ নেয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা