kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

তিব্বতী বৌদ্ধধর্মকে ‘চীনাকরণ’ করার চেষ্টা বেইজিংয়ের!

অনলাইন ডেস্ক   

৩১ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তিব্বতী বৌদ্ধধর্মকে ‘চীনাকরণ’ করার চেষ্টা বেইজিংয়ের!

তিব্বতি বৌদ্ধধর্মকে চীনের সংস্কৃতি ও ভাবধারার সঙ্গে ধাপে ধাপে খাপ খাইয়ে নেওয়ার (সিনিসাইজ) লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেইজিং। তিব্বতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য আরো একটি পদক্ষেপ এটি। মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, চীনের এমন কাজে বৌদ্ধধর্মের বিশ্বাসকে পরিবর্তন করবে। 

আগস্ট মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় তিব্বতির কর্মের ওপর কেন্দ্রীয় সিম্পোসিয়াম। এতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, তিব্বতের বৌদ্ধধর্মকে (চীন) সমাজতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। চীনের মতো উন্নত করা উচিত। তাইওয়ান নিউজে লেখা এক নিবন্ধে এমন তথ্য জানিয়েছেন তেনজিন সাংমো। 

সাংমো তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, এক বছর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের (পিআরসি) ৭০তম বার্ষিকীতে জিনপিং বলেছিলেন, কোনো শক্তিই চীনা জনগণ ও জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে আটকাতে পারে না। তবে ৭১তম বার্ষিকীতে বিশ্বে অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তি রয়েছে। যা চীনকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আর বৌদ্ধধর্ম তাদের মধ্যে অন্যতম হতে পারে।

এটা পরিষ্কার যে সিসিপি তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মকে হুমকি মনে করে। ২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে এমন দেশ হিসেবে চীনকে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ওই তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়া। 

তিব্বতে জোর করে বসতি স্থাপনের পর থেকে সিসিপি তিব্বতী ধর্মের ওপর চাপ দিচ্ছে। বিশেষত তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মের ওপর নিরলসভাবে চাপ দিচ্ছে সিসিপি। রাষ্ট্রীয় কৌশল ব্যবহার করে চীনা সরকার তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচারের পরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি প্রচারণা একটির চেয়ে আরেকটি নিষ্ঠুর ও নিপীড়নমূলক।

সাংমো জানিয়েছেন, চীন তিব্বতে রাজনৈতিকভাবে দমন, অর্থনৈতিক প্রান্তিককরণ, সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের এবং পরিবেশ ধ্বংস করতে শুরু করেছে। আর তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্ম নিয়ে চীনা শাসকদলের উদ্বেগ তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। সাংমোর মতে, ২০০৭ সালে রাজ্য ধর্মবিষয়ক ব্যুরোর ৫ নম্বর আদেশে তিব্বতীয় লামার পুনর্জন্মকে কমিউনিস্ট সরকারের অনুমোদন নেওয়ার জন্য আদেশ জারি করেছিল। 

নিবন্ধে সাংমো বলেন, এটি স্পষ্ট যে তিব্বত হলো হরেক রকম চাপের কেন্দ্রবিন্দু এবং সর্বদাই ছিল। এটি এমন একটি ভিত্তি যা থেকে চীনের সম্প্রসারণবাদী নকশা তৈরি হয়েছে। এটি মাত্র বিশ্ব সম্পূর্ণরূপে দেখতে শুরু করেছে।

সূত্র: এএনআই। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা