kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

তুরস্ক-গ্রিসে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২

অনলাইন ডেস্ক   

৩১ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরস্ক-গ্রিসে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২

শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে তুরষ্কে ও গ্রিসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। আহত হয়েছে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষ।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অ্যাজিয়ান সাগরে দেশ দুটির উপকূলীয় এলাকায় এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬।

ভূমিকম্পে ইজমির প্রদেশের ইজমির শহরে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই সড়কে হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন। তুরস্ক ও গ্রিসের কর্তৃপক্ষ বলেছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলও ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে। গ্রিসের সামোস দ্বীপেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই দ্বীপে উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইজমির শহরে ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ইজমির ও অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। একই দৃশ্য দেখা যায় গ্রিসেও।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সোয়লু এক টুইটে বলেছেন, ইজমিরের বায়রাকলি এবং বোর্নোভা জেলায় অন্তত ছয়টি ভবন ধসে পড়েছে। এছাড়া এই ভূমিকম্পে উসাক, দেনিজলি, মনিসা, বালিকেসির, আয়দিন এবং মুগলা প্রদেশেও হালকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশটির পরিবেশ মন্ত্রী মুরাত কুরুম বলেছেন, আমাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তিনটি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি এই মন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে দেখা যায়, সমুদ্রের উত্তাল গর্জনে ইজমির শহরের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীতে ভবন ধসের স্থানগুলো থেকে ঘন সাদা রঙয়ের ধোয়া উড়ছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা উদ্ধারকারীদের সহায়তা করার জন্য ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। সিএনএন তুর্কের ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ধসে পড়া একটি ভবনের ভেতর থেকে জীবিত এক নারীকে বের করে নিয়ে আসছেন।

ভূমিকম্পের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। সামোস দ্বীপের ডেপুটি মেয়র মিখাইলিস মিটসিওস স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটিকে বলেন, দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় সেখানকার আতঙ্কিত বাসিন্দারা রাস্তায় চলে আসেন। কিছু কিছু বাড়ির প্রাচীর ভেঙে পড়েছে এবং কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গ্রিস এবং তুরস্ক বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প সক্রিয় প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত দুটি দেশ। প্রায়ই এই অঞ্চলে শক্তিশালী এবং মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ১৯৯৯ সালে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০১১ সালেও দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভ্যান প্রদেশে শক্তিশালী এক ভূকম্পনে ৬ শতাধিক মানুষ মারা যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা