kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

ইমরান খানের অনির্বাচিত উপদেষ্টা ময়েদ ইউসুফের অসত্য ও অর্ধসত্য

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ১১:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইমরান খানের অনির্বাচিত উপদেষ্টা ময়েদ ইউসুফের অসত্য ও অর্ধসত্য

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জাতীয় সুরক্ষা ও কৌশলগত নীতি পরিকল্পনা বিষয়ক অনির্বাচিত পরামর্শদাতা ময়েদ ইউসুফ সম্প্রতি ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তার বক্তব্য পাকিস্তানের অবস্থান বিষয়ে শিরোনাম হয়েছে। সে দেশের বিরোধীদের বিক্ষোভ সমাবেশের বিরুদ্ধেও এটি অতি প্রয়োজনীয় জয় হিসেবে দেখেছে অনেকে।

কিন্তু ময়েদ ইউসুফের ভূমিকা ঠিক কী? চলতি বছরের আগস্টে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রায় দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর অনির্বাচিত উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহায়করা সরকারের কাজকর্মে নির্বাহী বা প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না; তাদের সম্পাদিত যেকোনো নির্বাহী আদেশ অবৈধভাবে গণ্য করা হবে এবং সেগুলো অকার্যকর করা হবে।

পাকিস্তান আদালতের রায় অনুসারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহায়কদের সরকারের পক্ষে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ওই রায় অনুসারে, মন্ত্রণালয়ের কোনো নীতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের ভূমিকা নেই। পাকিস্তানের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাশ্মীর বিষয়ক ও গিলগিট-বালতিস্তানের ব্যাপারে মন্ত্রী রয়েছেন, তাহলে একজন অনির্বাচিত উপদেষ্টা কিভাবে রাষ্ট্রের নীতিগত ব্যাপারে বক্তব্য দিচ্ছিলেন?

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গিলগিট বালতিস্তানকে প্রদেশ করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ময়েদ ইউসুফ। 

তার নানা ধরনের বক্তব্য শুধু অবৈধ ও বাতিলই নয়, তিনি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে নাকি তারা এতটাই অক্ষম যে পররাষ্ট্রনীতি ও কাশ্মীর সম্পর্কিত বিষয়ে একজন অনির্বাচিত উপদেষ্টার ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে?

মূলত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে নিজের অবস্থান গুলিয়ে ফেলে এ ধরনের আচরণ করছেন ইউসুফ। কিন্তু ইউসুফ তো আর সেই অবস্থানে নেই। পাকিস্তান সরকারের হয়ে যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ইউসুফ, তা করার ক্ষমতা ইউসুফের নেই। তার বক্তব্যটি কোনো মানুষের মতামত ছাড়া অন্য কোনোভাবে বিবেচনা করা যায় না।

তার বক্তব্যটি এখানেই শেষ করে দেওয়া যায়। কিন্তু ইমরান খানের এবং তার পেছনের শক্তি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জ্ঞাতার্থে ইউসুফ যে মিথ্যা ও অর্ধসত্য তুলে ধরেছেন, তা জনসম্মুখে তুলে ধরা দরকার।

কারণ, ময়েদ ইউসুফ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় শুরুই করেছেন এই বলে যে, ভারত বার্তা পাঠিয়েছে, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়। ভারতকে বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপনের পর ইউসুফ উল্লেখ করেন, কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনায় বসতে চায় পাকিস্তান।

এই বক্তব্যের দ্বারা তিনি পাকিস্তানের জনগণকে বুঝিয়েছেন, আলোচনার ব্যাপারে পাকিস্তান রাজি ছিল না; তবে আলোচনার টেবিলে আসার জন্য ভারতকে চাপে ফেলেছিল। 

সূত্র : বিজনেস ওয়ার্ল্ড।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা