kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

আনহার্ডে পিটার ফ্র্যাঙ্কলিনের নিবন্ধ

‘জিনজিয়াংয়ে চীনের উদ্দেশ্য নতুন সমাজ তৈরি নয়, পুরনোকে ধ্বংস করা’

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘জিনজিয়াংয়ে চীনের উদ্দেশ্য নতুন সমাজ তৈরি নয়, পুরনোকে ধ্বংস করা’

জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকিতে উইঘুর নারীদের বিক্ষোভ।

প্রায়ই ছোট পরিবারগুলোতে নির্যাতন বেশি চলে। তবে মানুষ যখন তাদের জীবনযাত্রার ব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে স্বাধীন; তখন আমাদের বেশির ভাগই এখনো যে পরিবারব্যবস্থা বেছে নিই সেটি হলো একক পরিবার। আমরা সব সময় সফল হই না, তবে আদর্শ হিসেবে এটির কোনো সন্দেহ নেই।

উদারপন্থী সমাজগুলোতে বৈচিত্র্যগুলোর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যেমন এক পিতা-মাতার পরিবার এবং সমকামী দম্পতির মতো পরিবারগুলোতে। তবে এটি যেকোনো ব্যক্তিগত বাড়ির মডেলই হোক না কেন, পিতা-মাতারা বাচ্চাদের প্রাথমিকভাবে আদর-যত্ন করেন। আর সেগুলোই আদর্শ হিসেবে থেকে যায়।

অধিকন্তু এমন অনেকগুলো উদাহরণ রয়েছে, যেখানে একক পরিবার নিপীড়নের উৎস নয়, বরং এটি হলো লক্ষ্য। যারা তাদের পরিবারের অন্য সদসদ্যের সহায়তা করবে, সেই পরিবারগুলোতেও কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়। অংশীদারি ও পিতৃত্বের সম্পর্কের জন্য দাসত্বের ইতিহাস এবং নির্মম তাচ্ছিল্যের দিকে একবার নজর দিন। 

প্রথম দিকের কমিউনিস্টদের কাছে, ঐতিহ্যবাহী পরিবারব্যবস্থা ছিল পুরনো নিদর্শন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতিবন্ধকতা এবং গোপনীয়তায় বুর্জোয়া ধারণার আশ্রয়স্থল। যদিও বাস্তবে, সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো শাসনকর্তারা দেখতে পেলেন যে ‘সামাজিক সমর্থন কাঠামোগুলো’র মৌলিক পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাত্ত্বিক করা হয়েছিল।

সব ধরনের সরকার জানে, পিতা-মাতার বিকল্পটি ব্যয়বহুল, তবে উভয়ের বিকল্পের ব্যয় নিষিদ্ধ। বর্তমানে সমষ্টিগতভাবে যে লালন-পালনের কথা শোনা যায় এটি তা নয়, এটি মূলত ‘কেয়ার ব্যবস্থা’, ব্রিটিশ পাবলিক স্কুল, হিপ্পি কমোনস এবং ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ডের পৃষ্ঠাগুলোতে সীমাবদ্ধ। অবশ্যই সম্পূর্ণ সমষ্টিকরণের সর্বগ্রাসী স্বপ্ন কখনোই উপলব্ধি করা যায়নি। এটি এখন অবধি নয়। 

সম্প্রতি ইকোনমিস্ট একটি ভয়াবহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে চীনা প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের মারাত্মক ভীতিজনক প্রবণতা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে গত কয়েক বছর ধরে বোর্ডিং স্কুল ছাত্রাবাসগুলোর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। যদিও চীনের বাকি অংশে প্রবৃদ্ধির হার কম এবং হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু এটি জিনজিয়াংয়ে বাড়ছে। এর কারণ হলো, উইঘুর প্রাপ্তবয়স্কদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। উইঘুরে বাচ্চাদের অনাথ করা হচ্ছে।

চীনের কমিউনিস্ট কর্তৃপক্ষ অন্যান্য উপায়েও পারিবারিক জীবনের মৌলিক বিষয়গুলোতে হাত দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, উইঘুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান চীনা জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও আপত্তিজনক আচরণ করছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে তাদের বাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে সৈন্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অবশ্যই সেখানে সেই পুরনো পিআরসি ব্যবস্থাও রয়েছে। যেখানে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়। সেই সঙ্গে নির্বীজনও (নারীদের বাচ্চা উৎপাদন করতে অক্ষম করে দেওয়া) করা হয়। উইঘুরদের জন্মহারের দ্রুত পতনটি হলো নিপীড়নের এই ব্যবস্থার প্রভাব।

জিনজিয়াংয়ে চীনের পারিবারিক নীতির ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। আর্থিক ও মানবিক; উভয় ক্ষেত্রেই এটি হবে। জিনজিয়াংয়ে চীনের উদ্দেশ্য নতুন সমাজ তৈরি করা নয়, বরং একটি পুরনো সমাজকে ধ্বংস করা।

সূত্র : আনহার্ড ডটকম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা