kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন : কেমন হবে শেষ বিতর্ক?

শামীম আল আমিন, নিউইয়র্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ২০:২২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন : কেমন হবে শেষ বিতর্ক?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে শেষ বিতর্কটি কি তথ্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হবে, নাকি তিক্তটার মধ্য দিয়ে শেষ হবে? এমন প্রশ্ন নিয়ে অপেক্ষা করছেন দেশটির মানুষ। যেমনটি অপেক্ষায় সারা দুনিয়ার মানুষও। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিপুল সংখ্যক ভোটারের কাছে একসঙ্গে পৌঁছানোর জন্যে দুই প্রার্থীর জন্যেই এটি একটি চমৎকার সুযোগ। যদিও এরই মধ্যে ৪ কোটি ২০ লাখেরও বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়ে নিজেদের রায় দিয়ে ফেলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের দুই প্রার্থীর কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেন ভোটাররা। বিশেষ করে বিতর্ক তারা সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের নীতিমালা তুলে ধরবেন এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামার ডিজিটাল জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এই বিতর্কটি এমন আদর্শ কিছু হোক, যা থেকে দ্বিধায় থাকা মানুষেরা সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হবে টেনেসির ন্যাশভিলে বেলমন্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে। সেন্ট্রাল ডেলাইট টাইম অনুযায়ী রাত ৮টায় শুরু হয়ে চলবে দেড়ট ঘণ্টা। বিতর্কটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এনবিসি টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা ক্রিস্টিন ওয়ালকার।

এর আগে করোনা সংক্রমিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভার্চুয়ালি বিতর্কে অংশ নেওয়ার কথা বলা হলেও, তিনি রাজি না হওয়ায় ফ্লোরিডার মায়ামিতে ১৫ অক্টোবর নির্ধারিদ দ্বিতীয় বিতর্কটি বাতিল করতে হয়েছিল। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট এই দুই প্রার্থীর মধ্যে এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম বিতর্কটি হয়েছিল ওহাইও’র ক্লিভল্যান্ডে ২৯ সেপ্টেম্বর।

প্রথম বিতর্কে দুই প্রার্থী একে অপরকে নানাভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছেন, একে অপরের বক্তব্যে বাঁধা দিয়েছেন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জোরালো। ফলে শেষ বিতর্কে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে আয়োজকদের। তার উপর প্রথম বিতর্কের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করোনা সংক্রমণের খবর প্রকাশিত হওয়ায় এ নিয়েও বাড়তি সতর্কতা রয়েছে। 
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে শেষ বিতর্কে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই প্রার্থীই যেন বাধাহীনভাবে কথা বলতে পারেন সেজন্যে এবার মিউট বাটন রাখা হয়েছে। তবে এ নিয়ে রিপাবলিকানদের পক্ষে থেকে তীব্র আপত্তি তোলা হয়েছিল। এরপরও বৃহস্পতিবার রাতের বিতর্কে ট্রাম্প অংশ নিচ্ছেন এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

রিপাবলিকান প্রচার শিবিরের ব্যবস্থাপক বিল স্টেপিন বিতর্ক পরিচালনা কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করে বলেছেন, তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা করে দেওয়ার সর্বশেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের বাসিন্দা ও বিশ্লেষক মোহাম্মদ মালেক বলেন, দেখুন মিউট বাটন দুই প্রার্থীর জন্যেই প্রযোজ্য হবে। এ নিয়ে রিপাবলিকানরা কেন এত আপত্তি করছেন সেটি তো বোঝা যাচ্ছে না! প্রথম বিতর্কের তিক্ততার কারণে এটি করতে হয়েছে”। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পকেই দায়ী করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে শেষ মুহুর্তে দুই প্রার্থী একে অপরের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার ভালো একটি সুযোগ পেয়েছেন। তারা এটিকে কাজে লাগাবেন, একে অপরকে আক্রমণ না করে বরং নিজেদের নীতিগুলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে কি করতে চান তারা সেটি পরিস্কার করবেন এমন আশার কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ল সোসাইটি নিউইয়র্কের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মুহাম্মদ আলী বাবুল। 

তবে এ প্রসঙ্গে নিবন্ধিত রিপাবলিকান ও বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান এলায়েন্সের চিফ কোঅর্ডিনেটর মুশতাক চৌধুরী অনেকটা ক্ষোভ মিশিয়ে বলেন, যেকোনো বিতর্ক, টাউন হল, সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কেবল করোনা ইস্যু নিয়েই প্রশ্ন করা হচ্ছে। এটি তো ঠিক নয়। কভিড ১৯ অবশ্যই একটি বিষয়, কিন্তু একমাত্র নয়। আরো অনেক ইস্যু রয়েছে, সেগুলো তো সামনে আসা উচিত। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক সাফল্য রয়েছে বলে দাবি করেন এই রিপাবলিকান।

জানা গেছে, এবারের বিতর্কে প্রতিটি ১৫ মিনিট পর্বের শুরুতে দুই প্রার্থী ২ মিনিট করে সূচনা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা যেনো বাধাহীন ভাবে কথা বলতে পারেন সেজন্য মিউটবাটন থাকবে, অর্থ্যাৎ তখন অন্য প্রার্থীর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হবে। তবে সূচনা বক্তব্যের পর একে একে দুই প্রার্থীর মাইক্রোফোন অন করে দেওয়া হবে, যেন তারা কথা বলতে পারেন।

শেষ মুখোমুখি বিতর্কের প্রস্তুতি নিতে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন চলতি সপ্তাহের সব প্রচারণা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা যাচ্ছে ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ খ্যাত স্টেটগুলোয় ছুটে বেড়াতে।   
এদিকে নির্বাচনের মাত্র ১৩ দিন আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পকে বাইডেনের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ‘সুইং স্টেট’ বা ‘দোদুল্যমান স্টেট’গুলোয় দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুব সামান্য। এমনকি অনেকটা “ফলাফল নির্ধারক” ফ্লোরিডায় এক প্রকার টাই মনে হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সুইং স্টেটগুলোর ভোটের ফলের উপরই ৩ নভেম্বরের ভোটে জিতে কে হোয়াইট হাউজে যাবেন, তা অনেকটা নির্ভর করছে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক্ষেত্রে নির্ভর করছেন তার নিরব বা শাই ভোটারদের উপর। যারা মুখে বলছেন না, কিন্তু ঠিকই রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। ২০১৬ সালের অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে ডেমোক্রেটরা। তাই বাইডেনের প্রচার শিবিরের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জেন ও’ মালি ডিলোন বলেছেন, জরিপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাইডেনকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও ব্যাটেলগ্রাউন্ড হিসাবে পরিচিত ১৭টি স্টেটে তিনি নিজেও দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। ফলে বিষয়টিকে খাটো করে না দেখে নিজেদের সমর্থকদের সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন তিনি।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা