kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

বেন্নুতে নামল মহাকাশযান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০৩:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেন্নুতে নামল মহাকাশযান

২০০ বছর পর এই গ্রহাণুই আছড়ে পড়বে পৃথিবীর বুকে। মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে অ্যাস্টেরয়েড বেল্টে থাকা রহস্যময় গ্রহাণু বেন্নুতেই একসময় পানির খোঁজ পেয়েছিল নাসা। এর বুকে নেমে অস্থিমজ্জার খোঁজ করার মিশন তৈরি হয়েছিল সেদিনই। প্রথমবার কোনো গ্রহাণুর পিঠে নেমে তা থেকে নুড়ি-পাথর কুড়িয়ে আনার এই দুঃসাহসিক পরিকল্পনা ছিল নাসারই। সেই অভিযানই সফল হলো। বেন্নুতে অবতরণ করে নমুনা সংগ্রহ করে ফেরার মুখে রয়েছে নাসার মহাকাশযান।

‘ওসিরিক্স রেক্স’—নাসার এই মহাকাশযানকে বেন্নুর পাড়ায় পাঠানো হয়েছিল ২০১৬ সালে। এত দিন গ্রহাণুর চারদিকে চক্কর দিয়ে তার হালহকিকত বুঝেছে এই মহাকাশযান। দফায় দফায় ছবি পাঠিয়েছে পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে। রুক্ষ, বন্ধুর, এবড়োখেবড়ো বেন্নুর পিঠে গতিবেগ সামলে অবতরণ করা একপ্রকার অসম্ভব ব্যাপার। অজানা গ্রহাণুর বুকে বিপদের আশঙ্কাও আছে। মহাজাগতিক রশ্মি, ধূমকেতু, উল্কা প্রায়ই আছড়ে পড়ে বেন্নুতে। তার আকারও যে খুব বড় এমনটা নয়। তাই সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তা একটা ছিলই। নাসার প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন টুইট করে জানিয়েছেন, সব চিন্তা-ভাবনার অবসান হয়েছে। নাসার ঐতিহাসিক মিশন সফল। বেন্নু গ্রহাণুর পিঠে নেমে নির্ধারিত সময়ের (১৬ সেকেন্ড) মধ্যেই মাটি-নুড়ি পাথর কুড়িয়ে ফিরে আসছে ওসিরিক্স রেক্স। পাথুরে মাটিতে অবতরণের সময় তার গতিবেগ টলেনি, মাটি খামচে নিতেও সমস্যা হয়নি। চাঁদে অ্যাপোলো মিশনের পরে প্রথমবার এক দুঃসাহসিক অভিযানে সাফল্য পেল নাসা।

পৃথিবীর কাছেপিঠে যত গ্রহাণু রয়েছে, তার মধ্যে বেন্নুর আকারই কিছুটা বড়। তাই মহাকাশযান নামানোয় কোনো সমস্যা নেই। পৃথিবী থেকে বেন্নুর দূরত্ব ৩৩ কোটি ৪০ লাখ কিলোমিটার। এই গ্রহাণুর ঠিকানা মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে অ্যাস্টারয়েড বেল্টে। এই ব্রহ্মাণ্ডে যত গ্রহাণু আছে, তাদের ঠিকানাই হলো এই অ্যাস্টারয়েড বেল্ট। বেন্নু আবার স্বভাবে লাজুক। নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেছেন, ঘন মেঘে মুখ লুকিয়ে রেখেছে বেন্নু। এই মেঘ তৈরি হয়েছে মহাজাগতিক কণা দিয়ে।

মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন গ্রহাণু থেকে ছিটকে যাওয়া অংশ, ধূমকেতুর বিচ্ছিন্ন অংশ, ছোট ছোট মহাজাগতিক কণা মিলে ঘন মেঘ তৈরি করেছে বেন্নুর আকাশে। অতীতে বিশাল উল্কাপাতের চিহ্ন রয়েছে বেন্নুর বুকে। আছড়ে পড়েছে ধূমকেতু, মহাজাগতিক রশ্মি। সেই ছাপ আজও বয়ে চলেছে এই গ্রহাণু। তাই তার মাটি রুক্ষ, বন্ধুর। এবড়োখেবড়ো পিঠ। এতই রুক্ষ পরিবেশ যে মহাকাশযানের অবতরণ সঠিকভাবে না হলেই মুশকিল। তার ওপর মাটিতে ছড়িয়ে রয়েছে নানা রকম খনিজ। এই খনিজ উপাদানগুলো তুলে আনাই লক্ষ্য ছিল ওসিরিক্স-রেক্সের। সূত্র : দ্য ওয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা