kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পুরনো কার্ড নিয়েই পড়ে আছেন ট্রাম্প

‘যদি হেরে যাই, আমার মোটেই ভালো লাগবে না। বোধ হয় দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০৩:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরনো কার্ড নিয়েই পড়ে আছেন ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্র রসাতলে যাবে, ভেসে যাবে অভিবাসীর বন্যায়, এমন ধুয়া তুলে ভোটার টানার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটারদের মন জয়ের লক্ষ্যে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের গোটা পরিবারকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করতেও ছাড়ছেন না।

সর্বশেষ জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় নির্বাচনী সমাবেশে গিয়ে ট্রাম্প যাচ্ছেতাই ভাষায় বাইডেন ও তাঁর দলের সমালোচনা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনের আগের শেষ দুই সপ্তাহে ভোটার টানার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিভিন্ন জরিপ বলছে, জনসমর্থনের দিক থেকে বাইডেন ১১ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্পের চেয়ে। বাইডেনের প্রচার ব্যবস্থাপক অবশ্য বলছেন, ব্যবধানটা দুই অঙ্কের নয়, বরং অঙ্কটা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।

জনসমর্থনের প্রকৃত ব্যবধান যেমনই হোক, কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প। ভোটারদের মন জয় করার জন্য তিনি পুরনো কার্ড খেলতে শুরু করেছেন। দেশের শাসনব্যবস্থা আর অভিবাসী ইস্যু নিয়ে অতিকথন করছেন তিনি, যেটা তিনি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালেও করেছেন।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওকালায় গত শুক্রবার সমাবেশে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বাইডেন পরিবার হলো অপরাধের আঁতুড়ঘর।’ ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ভোটারদের উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। তারা আমেরিকাকে কমিউনিস্ট দেশ বানাতে চায়।’

এ ছাড়া জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকোনে গিয়ে ডেমোক্র্যাটবিরোধিতা চাঙ্গা করার জন্য ট্রাম্প বলেন, ‘এই পয়সাওয়ালা উদারপন্থী ভণ্ডদের উদ্দেশে আমাদের বার্তা দেওয়ার এখনই সময়।’ অভিবাসীবিরোধিতা উসকে দিতে তিনি আরো বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে আপনাদের সম্প্রদায়গুলো অবৈধ এলিয়েন, মাদক আর অপরাধের বন্যায় ভেসে যাবে।’

বাইডেনের যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেনশিয়াল রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আমি যদি হেরে যাই, কী হবে ভাবতে পারেন?’ চেহারায় হতাশা ফুটিয়ে তুলে তিনি বলেন, ‘তখন কী করব আমি? আমার তো মোটেই ভালো লাগবে না। আমাকে বোধ হয় দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি জানি না।’

ট্রাম্পের এসব অতিকথনের বিপরীতে বাইডেন হাতিয়ার করেন মহামারি পরিস্থিতিকে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সাউথফিল্ডে গিয়ে গত শুক্রবার তিনি বলেন, ‘উনি আমাদের বলেই যাচ্ছেন, ভাইরাস অলৌকিকভাবে গায়েব হয়ে যাবে। এটা কিন্তু যাবে না। বাস্তবতা হলো ওটা আবার বাড়ছে, পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

কট্টর ডানপন্থী ও শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সমালোচনা করার অনীহা পুঁজি করে বাইডেন বলেন, মাঝেমধ্যে ট্রাম্প যেসব মন্তব্য করেন, সেগুলো কট্টরপন্থীদের কান পর্যন্ত পৌঁছেই না।

ডেট্রয়েটের সমাবেশে যোগ দিয়ে বাইডেন বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কী, তা সবাই জানে। এবার দেখিয়ে দিন, আমরা কী?’

বাইডেনের তহবিলে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ : নির্বাচনী তহবিলে মাসিক জমার ক্ষেত্রে নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন বাইডেন। গত সেপ্টেম্বরে তাঁর তহবিলে জমা পড়ে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর সঙ্গে রয়েছে অনলাইন দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে পাওয়া আরো ২০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে অঙ্কটি ৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত আগস্টে বাইডেনের তহবিলে জমা হয়েছিল ৩৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

এদিকে ট্রাম্প শিবির জানিয়েছে, তাদের তহবিলে জমা পড়েছে ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর আগে নির্বাচনী তহবিলে সর্বোচ্চ জমার রেকর্ড ছিল আরেক ডেমোক্র্যাট বারাক ওবামার ঘরে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রায় ২০ কোটি ডলার পেয়েছিলেন তিনি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা