kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে ইন্ধন দিচ্ছে তুরস্ক?

অনলাইন ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে ইন্ধন দিচ্ছে তুরস্ক?

প্রতীকী ছবি।

বিতর্কিত নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের দখল নিয়ে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারেও পিছু হটতে নারাজ দুই দেশ ক্রমাগত গোলাগুলি চালিয়ে গেছে। এরই মধ্যে নাগর্নো-কারাবাখের বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। এখনো পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বহু সাধারণ মানুষও আছেন।

গতকাল বুধবার রাশিয়া দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আর্মেনিয়া কিংবা আজারবাইজান কোনো সরকারই তাতে রাজি হয়নি। উভয় দেশই একে অপরকে শিক্ষা দিতে বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে তুরস্ক কি আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইন্ধন দিচ্ছে? যত দিন যাচ্ছে, ততই এই প্রশ্নটি সামনে চলে আসছে। মঙ্গলবার আর্মেনিয়া অভিযোগ করেছিল, তুরস্কের এফ১৬ যুদ্ধবিমান তাঁদের বিমানবাহিনীর একটি বিমান ধ্বংস করেছে। বুধবার ফের তারা দাবি করেছে, তুরস্কের যুদ্ধবিমান দিনভর আর্মেনিয়ার আকাশসীমায় বিপজ্জনক ভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে। তুরস্ক অবশ্য কোনো অভিযোগই স্বীকার করেনি।

তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, আজারবাইজানের উচিত নাগর্নো-কারাবাখ দখল করে আর্মেনিয়াকে শিক্ষা দেওয়া। তার জন্য তুরস্ক আজারবাইজানকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই ধারণা, তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে নেমে পড়লে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ চেহারা নেবে। অন্য দিকে, রাশিয়া বুধবার দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানায়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ থামিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসুক। কিন্তু আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া- কোনো দেশই এই প্রস্তাবে কর্ণপাত করেনি।

আজারবাইজান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আর্মেনিয়া নাগর্নো-কারাবাখ থেকে সরে গেলেই কেবল তারা শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। তার আগে পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। আর্মেনিয়াকে শিক্ষা দেওয়া হবে। অন্য দিকে আর্মেনিয়াও জানিয়েছে, আজারবাইজান তাদের এলাকা দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।

দীর্ঘ দিন ধরে নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের দ্বন্দ্ব। তবে ১৯৯৪ সালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়। সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেই দুই দেশ যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। নাগর্নো-কারাবাখ এখনো মুক্তাঞ্চল। সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশাসনও রয়েছে। তাদের বক্তব্য, দুই তরফ থেকেই তাদের এলাকার উপর আক্রমণ হচ্ছে। আজারবাইজান ড্রোন ব্যবহার করে গোলাবর্ষণ করছে বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই তারা মনে করছেন।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা