kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তুরস্কে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছেন এরদোয়ান?

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরস্কে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছেন এরদোয়ান?

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান, ফাইল ছবি।

গত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তাঁর দল একনায়কতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। এর মধ্যে এরদোয়ান সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ, বিরোধী এবং ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসা সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও বিরোধীদের নিরস্ত্র করতে গুলেন আন্দোলনের সমর্থকদের নির্মূল করা শুরু করেছেন এরদোয়ান।

তুর্কি সরকার ফেতুল্লাহ গুলেনের সমর্থকদের এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে দেশের সব ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করতে শুরু করেছে। তুর্কি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এরদোয়ান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর গুলেনপন্থী সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

এরদোগানের নির্দেশনার পরই গুলেনপন্থী মনোভাব প্রকাশের অভিযোগে মোট ৬৬ জন সৈন্যকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন সাবেক সেনা সদস্য। যাদের ফেতুল্লাহ গুলেনের ধারণাগুলো সমর্থন করার জন্য এবং ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ‘অভ্যুত্থান’ চেষ্টায় অংশ নেওয়ার কারণে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

এদিকে পুলিশ ফেতুল্লাহ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের (এফইটিও) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরো ৭৯ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এফইটিওর অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানী আঙ্কারায় ফেতুল্লাহর সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে গোপনে ম্যাসেজ আদান-প্রদানের জন্য এক ডজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তুরস্কের এজেন্সিগুলো ফেতুল্লাহ গুলেনের ধারণার প্রতি বিশ্বাসী এবং এরদোয়ানের শাসনের প্রতি অসন্তুষ্ট এমন আরো ৪৭ জনকে গ্রেপ্তারের জন্য ১৯টি প্রদেশে অভিযান পরিচালনা করেছে। এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে এফইটিওর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তুরস্কের এজেন্সিগুলো একই অভিযোগে ইস্তাম্বুল থেকে ১৩২ জন অবসরপ্রাপ্ত ও সক্রিয় সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

এরদোয়নের দল যুক্তি দিয়ে আসছে যে, গুলেন আন্দোলন, এরদোয়ানের দলের সঙ্গে জোটের সময় দক্ষতার সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেছে এবং বিশিষ্ট পদ দখল করেছে। তবে গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা ২০১৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগে এরদোয়ান ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করার পর এরদোয়ান গুলেনবাদীদের নির্মূল করতে শুরু করেছিলেন। বিরোধী ও ধর্মীয় নেতা ফেথুল্লাহ গুলেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

এক সপ্তাহ আগে তুরস্কের এজেন্সিগুলো ফেথুল্লাহ গুলেনকে সমর্থন করার অভিযোগে ৪৮ জন আইনজীবীসহ ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এর প্রতিবাদে ২০টিরও বেশি নাগরিক স্বাধীনতা সংস্থা এবং বার সমিতি এরদোয়ানকে উদ্দেশ করে একটি খোলা চিঠি লিখেছে। চিঠিতে আইনজীবীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও অবিলম্বে তাঁদের মুক্তির দাবি করা হয়েছে।

তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ফিউচার পার্টির নেতা আহমেত দাভোতোগলু এরদোয়ানের কড়া সমালোচনা করেছেন এসব কর্মকাণ্ডের জন্য। ইস্তাম্বুলে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরাসরি এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন এ রাজনীতিবিদ। একইভাবে রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা সেজগিন তানরিকুলুও তুরস্কের সংসদে এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

সূত্র : জি নিউজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা