kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাদরাসার শিক্ষকদের থাকতে দিল না কলকাতার গেস্ট হাউস

অনলাইন ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদরাসার শিক্ষকদের থাকতে দিল না কলকাতার গেস্ট হাউস

কর্মসূত্রে বিকাশ ভবনে যাওয়া ১০ জন মাদরাসার শিক্ষকের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ভারতের কলকাতার সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউসের বিরুদ্ধে। 

শিক্ষকদের অভিযোগ, বুকিং থাকা সত্ত্বেও তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের দোহাই দিয়ে একপ্রকার জোর করে গেস্ট হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অচেনা শহরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কার্যত অসহায় অবস্থায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিজতে হয়েছে তাদের।

পরে শিক্ষকদের একটি সংগঠনের সহযোগিতায় প্রাণ ফিরে পান তারা। ওই সংগঠনের সহযোগিতায় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বিষয়টি জানান তাঁরা। পাশাপাশি অভিযোগ করেন বিধাননগর পুলিশের কাছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বিধাননগর কমিশনারেট। জানা গেছে, গতকাল সোমবার মালদা থেকে কলকাতা আসেন ১০ জন মাদরাসাশিক্ষক। 

তাঁদের বিকাশ ভবনে ডিরেক্টর অব মাদরাসা এডুকেশন বিভাগে কাজ ছিল। সেই সূত্রেই গতকাল ভোরে কলকাতায় আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে এবং বিধাননগর পুলিশকে দেওয়া অভিযোগপত্রে তাঁরা জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে ঘর দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাঁদের জানানো হয়েছে গেস্ট হাউসের পক্ষ থেকে। 

এ ঘটনার কেন্দ্রে থাকা দুটি গেস্ট হাউসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। সল্টলেক সেক্টর-টু-এর ডিএল ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি গেস্ট হাউসের এক কর্মীর মাধ্যমে সিএল ১৬৪ নম্বর বাড়ির এড্রোলিস গেস্ট হাউসে মালদার ১০ শিক্ষকের জন্য তিনটি ঘর বুক করেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সংগঠনের নেতা মইদুল ইসলাম। 

তাঁর বক্তব্য, বুকিংয়ের সময় অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। তারপর গতকাল সোমবার সকালে গেস্ট হাউসে পৌঁছার পর বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে বোর্ডিং করেন ওই ১০ জন। তার কিছুক্ষণ পর গেস্ট হাউসের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

প্রবল বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বিকাশ ভবন আসেন ১০ জন শিক্ষক। তারপর মেট্রো ওভারব্রিজের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন তারা। এরপর পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সহযোগিতায় বিধাননগর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে বিষয়টি জানান।

মেহবুব রহমান, জাহাঙ্গীর গনি, ওবায়দুর রহমানসহ আরো সাতজন মালদা থেকে এসেছিলেন কলকাতায়। তাঁদের অভিযোগ, গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ অমানবিক আচরণ শুধু করেছে এমনটি নয়, চরম দুর্ব্যবহারও করেছে তারা। একপ্রকার বলপূর্বক গেস্ট হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে সবাইকে। 

পুলিশ বলছে, সিএল ব্লকের ওই গেস্ট হাউসের এক কর্মকর্তার নাম তন্ময় মুখোপাধ্যায়। একাধিকবার ফোন করা হয় তাঁকে। কোনো উত্তর দেননি তিনি। 

তবে ওই গেস্ট হাউসের এক কর্মী জানিয়েছেন, তাঁদের সব ঘর ভর্তি ছিল বলে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পথে নামতে চলেছে সিপিএম। সংগঠনের পলিটব্যুরোর সদস্য মুহাম্মদ সেলিম এর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি।

সূত্র : কলকাতা টোয়েন্টিফোর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা