• ই-পেপার

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা

'৫১ জনকে হত্যা করার পরও কীভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়?'

‘বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা যুদ্ধাপরাধ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা যুদ্ধাপরাধ’
আদিত্য শর্মা ও পালাউ পতাকাবাহী জাহাজ এমটি সেত্তেবেলোয়

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে আচ্ছন্ন রাজেশ শর্মা। গত বুধবার ওমান উপকূলে পালাউ পতাকাবাহী জাহাজ এমটি সেত্তেবেলোয় মার্কিন হামলায় নিহত তিন নাবিকের একজন ছিলেন তার ছেলে আদিত্য শর্মা। মাত্র ২৩ বছর বয়সী আদিত্য প্রশিক্ষণার্থী ডেক ক্যাডেট ছিলেন। আদিত্যের অকাল মৃত্যুর জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন রাজেশ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপ রাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ এনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি দাবি জানান।

মাত্র চারদিনের ব্যবধানে ভারতীয় নাবিকদের পরিচালিত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনায় ওমান উপকূলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও উত্তাপ এনেছে।

গত সোমবার ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি মারিভেক্সে মার্কিন হামলার পর রাজেশ শর্মা তার ছেলে আদিত্যকে ফোন করেন। আদিত্য জানায়, আক্রান্ত জাহাজ থেকে তারা কিছুটা দূরে আছে এবং নিরাপদে আছে। সেটা ছিল সন্তানের সাথে তার শেষ কথা। বুধবার আদিত্য তার বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায়, আমরা ভালো আছি। তার এক ঘণ্টার মধ্যে আদিত্যের জাহাজ  সেত্তেবেলো হামলার শিকার হয়। ২৪ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। হারিয়ে যাওয়া তিন নাবিকের মধ্যে একজন ছিলেন আদিত্য। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার সেত্তেবেলোয় হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লীতে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিক্সকে তলব করে এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এই হামলাগুলোকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে  গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানায়। 

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক মিডিয়া ব্রিফিঙে বলেন, “আমরা আমাদের নাবিক সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। যখন ‘এমটি সেত্তেবেলো’ জাহাজে এই সুনির্দিষ্ট হামলাটি ঘটেছিল, তখনই আমরা মার্কিন পক্ষের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি।” 

কিন্তু সে নিন্দা ও প্রতিবাদে কাজ হয়নি। জয়সওয়াল যখন ব্রিফ করছেন, তখন ওমান উপকূলে হামলা হয় গিনি বিসাউয়ের পতাকাহী এমটি জলবীরে। এ জাহাজটিও মূলত ভারতীয় নাবিকরা পরিচালনা করেন। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার- মাত্র চারদিনের মধ্যে তিনটি জাহাজে হামলা এবং তিন নাবিকের প্রাণহানীর ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের পরিবারে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। 

নিহত নাবিক আদিত্য শর্মার বাবা রাজেশ শমা নিছক সন্তান হারানোর শোকে আবেগাপ্লুত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেননি। নিজের অভিযোগের পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি, ‘ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ করা অবশ্যই একটি যুদ্ধাপরাধ।’ 

ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কার্গো জাহাজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার অনেক উপায় আছে—আপনারা সেখানে সামরিক বাহিনী পাঠাতে পারতেন, নাবিকদের গ্রেপ্তার করতে পারতেন। কিন্তু প্রাণঘাতী মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করার কোনো অধিকার আপনাদের নেই।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর অস্বীকার করেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-সেন্টকম এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বারবার মার্কিন নির্দেশনা উপেক্ষা করা এবং ইরান থেকে তেল পরিবহনের কারণেই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার তরেছে এমটি সেত্তেবেলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তারা ভারতের তিন নাবিকের মৃত্যুর জন্য মার্কিন বাহিনীকেই দায়ী করেছেন। সেত্তেবেলোর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রাণহানির ঘটনায় জবাবদিহিতা এবং একটি স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ উপেক্ষা করেছে এবং ইরানের তেল পরিবহন করছিল— এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার আগে জাহাজের সাথে কোনো কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। ইরানের সাথে যোগাযোগ বা ইরানি তেল পরিবহনের অভিয়োগও সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে সেত্তেবেলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

কে সত্য বলছেন, তা নিয়ে হয়তো অনেক চাপানউতোর হবে। বিনা অপরাধে তিন বেসামরিক নাবিকের মৃত্যুর আসল সত্যটা হয়তো কখনোই জানা যাবে না। সত্য যাই হোক, একমাত্র সন্তান হারানোর শোক হয়তো কখনোই ভুলতে পারবেন না রাজেশ শর্মা।

বিল গেটসকে যেভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন

অনলাইন ডেস্ক
বিল গেটসকে যেভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন

চলতি বছর কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইল প্রকাশের পর তার সঙ্গে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই রুদ্ধদ্বার কক্ষে এ বিষয়ে গেটসের একটি সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১০ জুন) হাউস ওভারসাইট কমিটির সদস্যদের এসব তথ্য দিয়েছেন গেটস। সেখানে তিনি বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানায় মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন

হাউস ওভারসাইট কমিটির শুনানিতে উদ্বোধনী বক্তব্যে এই মার্কিন ধনকুবের বলেন, ‘আমি এপস্টেইনকে কখনো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে দেখিনি এবং এর কোনো আভাসও পাইনি।’

লিটল সেন্ট জেমস বা এপস্টাইন দ্বীপে যাওয়ার বিষয়ে বিল গেটস বলেন, ‘আমি কখনো তার দ্বীপ, তার খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার বাড়িতে যাইনি। আমি কখনো কাউকে ভুক্তভোগী বানাইনি। তিনি হয়তো একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি তাতে সাড়া দিইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানতে পারি, এপস্টিন আমার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সংবেদনশীল তথ্য জেনে গেছেন। এর মধ্যে ছিল আমার বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত না থাকার বিষয়টি।’

তবে এই পরকীয়া আর এপস্টেইনের সঙ্গে আমার মেলামেশার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এগুলো আমার পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক ছিল বলেও জানান তিনি।

গেটস তার সাক্ষ্যে অভিযোগ করেন, তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এপস্টেইন তার পরকীয়া সম্পর্কে যা জানতেন, তাতে আরও অনেক মিথ্যা তথ্য যোগ করে তার সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করতে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে গেটস আরো বলেন, ‘এপস্টেইন এই চেষ্টায় সফল হননি। আমার আসলে এপস্টেইনের সঙ্গে আমার দেখাই করা উচিত হয়নি।’

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সীমিত’ বলে বর্ণনা করেন গেটস। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

গেটসের সাক্ষ্য সম্পর্কে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যানসবারি বলেন, ‘এপস্টিনের সুনাম বা কুখ্যাতি সম্পর্কে জানতেন বলে স্বীকার করেছেন বিল গেটস। তিনি স্বীকার করেছেন এপস্টিন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত, তার ভাষায়, তিনি ধনী দাতাদের কাছে পৌঁছানোর গ্রহণযোগ্য একটি মাধ্যম হিসেবে এই সীমিত সম্পর্ক রেখেছিলেন।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছর কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইলগুলো প্রকাশের পর তার সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই রুদ্ধদ্বার কক্ষে গেটসের এই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে বলে জানায় মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।

লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৬
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলায় একাধিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাতে এ তথ্য জানায় আলজাজিরা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইর জেলার আল-আব্বাসিয়াহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হন। একই জেলার দেইর কানুন আন-নাহের এলাকায় আরেকটি হামলায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী ওয়াদি জিলু গ্রামের কাছে একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এনএনএ জানিয়েছে, একই সময়ে টাইর জেলার আল-মাজাদেল এবং মাজদাল জুন শহরেও বিমান হামলা বা অভিযানের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা, ড্রোন হামলা এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা, এক দশকের ‘বিতর্কিত’ তদন্তে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা, এক দশকের ‘বিতর্কিত’ তদন্তে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
রয়টার্স ছবি

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে ২০১৫ সালের ১৭ আগস্টে। ওই দিন ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরে ভয়াবহ বোমা হামলায় বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় এক দশক পরে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। যদিও এই রায় এবং তদন্ত নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই চীনের মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তারা ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরের কাছে ভয়াবহ বোমা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও ছিলেন।

তবে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে মামলাটি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পুরো বিচারকালেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

২০১৫ সালের ওই হামলায় একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে রাজধানী ব্যাঙ্ককের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। বিস্ফোরণে মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেওয়া মানুষজন ছাড়াও আশপাশের সড়কে অবস্থানরত মোটরসাইকেল আরোহীরা হতাহত হন। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।

হামলার পরপরই থাই কর্তৃপক্ষের তদন্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পর্যটন খাতের ক্ষতি কমাতে সরকার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিষ্কার করার নির্দেশ দেয় এবং মাত্র দুই দিনের মধ্যেই মন্দিরটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন সমালোচকেরা।

তদন্তে দেখা যায়, আশপাশের অনেক নিরাপত্তা ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। তবে কিছু ভিডিও ফুটেজে দীর্ঘ চুল ও মোটা চশমা পরা এক ব্যক্তিকে একটি বেঞ্চের নিচে ব্যাকপ্যাক রেখে দ্রুত সরে যেতে দেখা যায়। পরে আরেকটি ভিডিওতে অন্য এক ব্যক্তিকে একটি দ্বিতীয় বোমা খালে ফেলে দিতে দেখা যায়, যা পরে বিস্ফোরিত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হামলার দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বিলাল মোহাম্মদ নামে একজনকে ব্যাঙ্ককের পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। সেখানে বোমা তৈরির উপযোগী রাসায়নিক পদার্থও উদ্ধার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে আদেম কারাদাগ নামের একটি জাল তুর্কি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

অন্য অভিযুক্ত ইউসুফু মিয়েরালিকে কম্বোডিয়া থেকে আটক করে থাইল্যান্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের শুরুতে থাই পুলিশ বলেছিল, আটক দুই ব্যক্তি বোমা স্থাপনকারী ব্যক্তি নন। কিন্তু পরে বিলাল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়, যদিও নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা ব্যক্তির সঙ্গে তার চেহারার উল্লেখযোগ্য মিল ছিল না বলে দাবি করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক।

এছাড়া হামলার ঘটনায় আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যাদের কয়েকজন এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলেও তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের অনুপস্থিতির কারণে হামলার প্রকৃত নেপথ্য কাহিনি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।

বিতর্কিত যোগসূত্র

প্রত্যাশিতভাবেই অনেকেই এই বোমা হামলার সঙ্গে এর আগের মাসে থাইল্যান্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন। ওই সিদ্ধান্তে ১০৯ জন উইঘুর পুরুষকে জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে উইঘুর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ওই মন্দিরটি চীনা পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। ফলে ঘটনাটি প্রতিশোধমূলক হামলা বলেই মনে হচ্ছিল অনেকের কাছে।

তবে থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার এই সম্ভাবনা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, গত বছর ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তার অসন্তুষ্ট বিরোধীদের কাজের কারণেও এটি হতে পারে । পরে তারা জোর দিয়ে বলে, সরকারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে ক্ষুব্ধ মানবপাচারকারীরাই এ হামলার পেছনে রয়েছে।

এক অদ্ভুত মোড় নিতে অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে তথ্যদাতার জন্য ৮০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে থাই পুলিশ । এ ঘটনার পরপরই দুই জনকে আটক করার পরও অনেক সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছে বলে স্বীকার করে তারা। কিন্তু এরপরও ওই পুরস্কার নিজেরাই নিজেদের দিয়ে দেয় এবং ঘোষণা করে, মামলার তদন্ত শেষ।

দুই সন্দেহভাজনকেই সামরিক হেফাজতে রাখা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হলে তারা সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নেন।

তাদের মধ্যে বিলাল মোহাম্মদ চিৎকার করে অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন, গ্রেপ্তারের সময় যে বাড়িতে তিনি ছিলেন সেখানে তিনি একজন মানবপাচারকারীর অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে তিনি তুরস্কে যেতে চেয়েছিলেন। এটি উইঘুর আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবহৃত একটি সুপরিচিত রুট।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বিলম্ব। সাধারণত থাই কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, তারা উইঘুর ভাষাভাষী কোনো দোভাষী খুঁজে পাচ্ছে না। অভিযুক্তরা চীনা দূতাবাসের প্রস্তাবিত দোভাষীদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এভাবে বিলম্ব চলতেই থাকে—এক দশকেরও বেশি সময় ধরে।

আন্তর্জাতিক আইনবিদ কমিশনসহ (আইসিজে) কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন বিচারপ্রক্রিয়া এবং মামলার অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ায় এত বেশি সমস্যা ছিল যে দুই সন্দেহভাজনকে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

এক বিবৃতিতে আইসিজে বলেছে, বিলাল মোহাম্মদ ও ইউসুফু মিয়েরাইলির তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং বিচার মানবাধিকার লঙ্ঘন পরিপূর্ণ ছিল। এতে থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত দুর্বলতাও উন্মোচিত করেছে।

তবে বিচারকরা রায় দেন যে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থাপিত ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, বোমা হামলার সময় দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

দুই আসামির আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

'৫১ জনকে হত্যা করার পরও কীভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়?' | কালের কণ্ঠ