kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

বাইডেন-কামালার যৌথ আক্রমণ, প্রতিক্রিয়া জানালেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ১৩:১৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাইডেন-কামালার যৌথ আক্রমণ, প্রতিক্রিয়া জানালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কামালা হ্যারিস বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন অযোগ্য নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্ত করে রেখেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে করেছেন জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিস। এর আগে  বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কামালা হ্যারিসের নাম প্রকাশ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের বক্তব্যের জবাবে বলেন, হ্যারিস তার নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ে নুড়ি পাথরের মতো নীচে গড়িয়ে পড়বে।

এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের মুখোমুখি হবেন ডেমোক্রেটিক জো বাইডেন।

উইলমিংটনে বুধবারের নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ৭৭ বছর বয়সী বাইডেন।

জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিস মুখে মাস্ক পরে মঞ্চে উপস্থিত হন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পরা একদল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দু'জন প্রার্থীকে এক ঝলক দেখতে প্রচারণা অনুষ্ঠান শুরুর আগে হালকা বৃষ্টিতে প্রায় ৭৫ জন লোক বাইরে জমায়েত হয়েছিল, যদিও এই ভিড়ে থাকা কয়েকজন বাইডেনের সমালোচক ছিলেন।

বক্তব্যের সময় জো বাইডেন বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর হ্যারিস হলেন প্রথম কোনো কালো বর্ণের নারী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান একটি দলের হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জো বাইডেন বলেন, আমরা এই নভেম্বরে যাকে বেছে নেব, সেই নির্ধারণ করবে আমেরিকার অনেক দীর্ঘ সময়ের ভবিষ্যৎ। ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে এসব বক্তব্যের জবাব দিতে শুরু করেছেন। কামালাকে জঘন্য বলে সম্বোধন করেছেন এবং কামালা তার নিয়োগকারীর দৃষ্টিতে কেমন, সেটা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন।

তিনি আরো বলেন, এটি অবাক হওয়ার কিছু নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যে কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে ভালো ঘ্যানঘ্যান করেন।

তিনি আরো বলেন, একজন নারী অথবা কোনো একটি বোর্ড জুড়ে থাকা শক্তিশালী নারীদের নিয়ে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমস্যা আছে, এতে কি কেউ অবাক হয়েছেন?

কামালা হ্যারিস মঞ্চে গিয়ে বলেন, আমি কাজ করতে প্রস্তুত আছি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কী হবে, সেটা নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের শিশুরা, আমরা যে ধরনের দেশে বাস করছি তার সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য হাহাকার করছে, অথচ আমাদের এমন একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আছেন তিনি শুধু নিজের চিন্তায় আছেন। যারা তাকে নির্বাচিত করেছে তাদের দিকে খেয়াল নেই। বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের কাছ থেকে ইতিহাসের দীর্ঘতম অর্থনৈতিক প্রসার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন ট্রাম্প। এরপর তিনি (ট্রাম্প) উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্ত কিছু সরাসরি মাটিতে ছুঁড়ে নষ্ট করেছেন।

হ্যারিস আরো বলেন, এমনটাই হয়, আমরা যখন এমন একজন ব্যক্তিকে বেছে নিই, যিনি এই কাজের জন্য উপযুক্ত নন- আমাদের দেশকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের খ্যাতিও বিনষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

বুধবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, কামালা হ্যারিস যখন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন লাভ করতে ব্যর্থ হন তখন বাইডেনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, আমি দেখেছি তার জরিপের সংখ্যাগুলো বুম, বুম, বুম, করে নামতে নামতে প্রায় শূন্যে পৌঁছে যায় এবং তিনি রাগে পাগল হয়ে যান। তিনি (কামালা) বাইডেনের সম্পর্কে ভয়ঙ্কর সব কথা বলেছেন। এমনকি একজন নারী যখন বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তখন তার কথাও হ্যারিস বিশ্বাস করেছিলেন বলে আমার ধারণা।

তিনি আরো বলেন, এখন সেই তিনিই বাইডেনের রানিং মেট হয়ে গেলেন। আবার বাইডেন সম্পর্কে ভালো ভালো কথাও বলছেন।

প্রসঙ্গত, জো বাইডেনের বিরুদ্ধে এর আগে কয়েকজন নারী অযাচিত ব্যবহার, স্পর্শ এবং চুম্বন করার অভিযোগ তুলেছেন।

হ্যারিস এসব অভিযোগের বিষয়ে ২০১২ সালের এপ্রিলে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমি ওই নারীদের বিশ্বাস করি। বাইডেন সেই সময়ে স্বীকার করেছিলেন যে, তাকে অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।

বাইডেনের বিরুদ্ধে এ বছর আরো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক এক সেনেটের সহযোগী। ১৯৯৩ সালে কংগ্রেসের হলে  বাইডেন তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন বলে  অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করেন বাইডেন।

ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বাদ পড়ে যাওয়া হ্যারিস বলেছেন, রিডের 'নিজের গল্প বলার অধিকার আছে'।

এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকজন নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। যার সবগুলেঅ তিনি অস্বীকার করেছেন।বাইডেন-হ্যারিসের এই প্রচারণা অনুষ্ঠানের কিছুক্ষণ আগেই, ট্রাম্প এই লকডাউনের মধ্যে বাইডেনকে বাড়িতে থাকতে বলেছেন।

হোয়াইট হাউসের ইভেন্টে প্রেসিডেন্ট একদল শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করেন, ঘরে বসে বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করা স্বাস্থ্যকর কি না।

এ ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, তাহলে আপনি যদি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন এবং আপনি একটি বেসমেন্টে বসে থাকেন এবং আপনি একটি কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকেন, এটি কি ভালো বিষয় নয়?

তারপরে তিনি বাইডেন হ্যারিসের প্রচারণাতে কটাক্ষ করে টুইট করেন, তারা কোরি বুকার, যিনি কিনা একজন কৃষ্ণাঙ্গ, তাকে শহরতলিতে স্বল্প আয়ের আবাসনের দায়িত্বে রাখবেন। এই টুইটকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা