kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

প্রশ্নের মুখে রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন

অনলাইন ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০২০ ১৮:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশ্নের মুখে রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন

রাশিয়া করোনার যে ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ট্রায়ালের সম্পূর্ণ তথ্য ছাড়াই ভ্যাকসিনটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতার ব্যাপারটি বিশ্বাস করা কঠিন। তাদের দাবি, করোনার এই ভ্যাকসিন এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ধাপ শেষ করেনি। 

বিস্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে সুরক্ষা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যের বিচার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।’ গত সপ্তাহেও তারা রাশিয়াকে জানিয়েছিল, তারা যেন সুরক্ষা ও কার্যকারিতা সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠিত বিধি মেনে চলে।

রশিয়া এই ভ্যাকসিন নিয়ে কোনো ক্লিনিকাল ট্রায়াল রিপোর্ট দেয়নি। সাধারণত, তৃতীয় পর্যায়ে কয়েক লাখ লোককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। তার ফলাফল সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। রাশিয়ার দাবি, তারা হাজার কয়েক লোকের ওপর এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করেছে। মস্কোভিত্তিক অ্যাসোাসিয়েশন অব ক্লিনিকাল ট্রায়ালস অর্গানাইজেশন চলতি সপ্তাহেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নুরোধ করেছিল, এই ভ্যাকসিন নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে।

রাশিয়া এতো তাড়াতাড়ি করোনার ভ্যাকসিন বের করে ফেলায় বিশেষজ্ঞদের একাংশ রীতিমতো সন্দিগ্ধ। তাঁদের মতে, ভ্যাকসিন নিয়ে দীর্ঘদিন ট্রায়াল দিতে হয়। তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে হয়। বিভিন্ন ধরনের মানুষের ওপর তা প্রয়োগ করতে হয়। 

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডানকান ম্যাথুজের বক্তব্য, ভ্যাকসিন তৈরির খবর অবশ্যই স্বাগতযোগ্য। কিন্তু এর সুরক্ষার দিকটাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ ল বিশেষজ্ঞ লরেন্স গস্টিন বলেছেন, আমি উদ্বিগ্ন। রাশিয়ার ভ্যাকসিন শুধু যে অকার্যকর হতে পারে তাই নয়, নিরাপদ নাও হতে পারে। পরীক্ষা করা সব চেয়ে জরুরি।

আমেরিকার প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, আমার আশা যে চীন ও রাশিয়া মানবদেহে ভ্যাকসিন দেয়ার আগে তা  ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখবে। 

আরেক বিশেষজ্ঞ পিটার ক্রমসনারের মতে, এই ভ্যাকসিন নিয়ে দীর্ঘ পরীক্ষা দরকার। তা না করে বাজারে ছাড়া হলে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হবে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিক্স ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সিস বেলাক্স রাশিয়ার ভ্যাকসিন ব্যবহারের এই অনুমোদনকে ‘বেপরোয়া ও বোকামি সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরিক্ষা না করেই গণহারে মানুষের জন্য ভ্যাকসিন ব্যবহারের এমন অনুমোদন অনৈতিক।’ 

ব্রিটেন ওয়ারউইক বিজনেস স্কুলের বিশেষজ্ঞ ওষুধ গবেষক আয়ফার আলি রয়টার্সকে বলেন, ‘এত দ্রুত ভ্যাকসিন ব্যবহারের এমন অনুমোদনের অর্থ হচ্ছে এর দ্বারা বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এটা বিরল। এ কারণে এই ভ্যাকসিন মারাত্মক ও নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।’ 

অথচ মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিয়ে বলেন, আমরাই প্রথম করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করেছি। আমাদের তৈরি ভ্যাকসিনটি স্থায়ী বা টেকসই প্রতিরোধী সক্ষমতা দেখাতে সক্ষম। প্রয়োজনীয় সব ধাপ অতিক্রম করেই তা কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সাফল্যের ঘোষণা দেওয়া রাশিয়া তাদের ভ্যাকসিনটির নাম রেখেছে ‘স্পুটনিক-৫’! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সর্বপ্রথম মহাশূন্যে তারা যে স্যাটেলাইট প্রেরণ করে তার নামও ছিল স্পুটনিক।

সূত্র: ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা