kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা গণহত্যার আলামত সরবরাহ করেনি ফেসবুক

অনলাইন ডেস্ক   

১১ আগস্ট, ২০২০ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা গণহত্যার আলামত সরবরাহ করেনি ফেসবুক

ফাইল ছবি।

রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে মিয়ানমার। ভবিষ্যৎ প্রসিকিউশনে ব্যবহারের জন্য মিয়ানমারে সংঘটিত গণহত্যার আলামত সংগ্রহ করতে ২০১৮ সালে ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম অন মিয়ানমার (আইআইএমএম) প্রতিষ্ঠা করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। মিয়ানমার বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, পুলিশ পোস্টে হামলাকারী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফেসবুক অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। আর সেসব বিদ্বেষমূলক বক্তব্যই সহিংস পরিস্থিতিকে আরো জোরালো করে তুলেছে। তবে ফেসবুক বলছে, তারা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থামাতে কাজ করছে এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো ডিলিট করে দিয়েছে। তবে ওই সব অ্যাকাউন্টের ডাটাগুলো সংরক্ষিত আছে বলেও দাবি ফেসবুকের।

জাতিসংঘের তদন্তকারী সংস্থার প্রধান বলেছেন, তদন্তকারীদের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ‘গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ’ হওয়ার প্রমাণ প্রকাশ করেনি ফেসবুক।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বলেছেন, 'সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টের কাছে ‘অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণমূলক’ উপাদান ছিল, কিন্তু বছরের পর বছরের আলোচনায়ও তারা সেসবের কিছুই প্রকাশ করেনি।' তবে জাতিসংঘ তদন্ত সংস্থার এমন অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ফেসবুক।

কৌমজিয়ান বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে, আজ অবধি, ফেসবুকের কাছ থেকে কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি, তবে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আমি আশাবাদী যে প্রক্রিয়াটি শেষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলো পাওয়া যাবে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের ফলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গাকে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তবে মিয়ানমার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী পুলিশ পোস্টগুলিতে আক্রমণকারী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান পরিচালনা করছে।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, সে সময় সহিংসতা বাড়িয়ে তোলার মতো ঘৃণ্য বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে ফেসবুক মূল ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও ফেসবুক বরাবরই বলেছে, তারা ঘৃণা সৃষ্টিকারী বক্তব্য বন্ধ করতে কাজ করছে এবং সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সামরিক অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলেছে, তবে তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

ভবিষ্যতে বিচারকার্যে ব্যবহারের জন্য ২০১৮ সালে মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ইউএন মানবাধিকার কাউন্সিল আইআইএমএম গঠন করে।

সূত্র : আলজাজিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা