kalerkantho

শুক্রবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৭। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২৯ মহররম ১৪৪২

নিজ দলের নেতাদের তোপের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ২০:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজ দলের নেতাদের তোপের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী

কেপি শর্ম ওলি।

সম্প্রতি রাম নেপালি নাগরিক এবং আসল অযোধ্যা নেপালের অংশ ছিল দাবি করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে নিজ দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদেরই তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁকে ক্ষমা করার জন্য বলেছেন দলটির নেতারা। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করার জন্য একটি বিবৃতিও জারি করেছিলেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির উপনেতা বামদেম গৌতম ফেসবুকে জানান, তিনি এবং কে পি শর্মা ওলি দুই বছর আগে রাম এবং অযোধ্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি ওলিকে সতর্ক করেছিলেন, স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া না গেলে এই বিষয়ে যেন কোনো বিবৃতি দেওয়া না হয়।

ফেসবুকে বামদেম গৌতম লেখেন, প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম অনুসরণ করে। ফলে কারো ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিশানা করে তাদের আবেগের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করা উচিত নয়। একইভাবে কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠী বা ব্যক্তি তাদের কায়েমি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ধর্মীয় গ্রন্থকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাও উচিত নয়। আমরা কমিউনিস্টরা সেক্যুলার থাকতে চাই।

বামদেম গৌতম আরো লেখেন, রামের জন্মস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ইতিহাসবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুন, যাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করবে।

নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র নারায়ণ কাজি শ্রীনাথ টুইটারে লেখেন, আসুন, আমরা, নেপালের রাজনৈতিক দল এবং নেতাদের অপমান ও অবমূল্যায়ন করা বন্ধ করি। সাময়িক সুবিধার জন্য সত্যকে উপেক্ষা করে কোনো কিছু বলা এবং প্রচার করা থেকে বিরত থাকি। এগুলো সমাজ এবং জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কী শেখাচ্ছি? আসুন আমরা দেশপ্রেমিক এবং বিচক্ষণ হই। 

প্রধানমন্ত্রী ওলির বক্তব্যের যে অংশটি ব্যাপকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, রামায়ণে উল্লিখিত অযোধ্যার অবস্থান নিয়ে তিনি একাধিক মন্তব্য করেছেন। 

এর আাগে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি দাবি করেছিলেন, রাম নেপালি নাগরিক এবং আসল অযোধ্যা নেপালের অংশ। তিনি বলেন, আসল অযোধ্যা হলো বীরগঞ্জের খানিকটা পশ্চিমে অবস্থিত। কিন্তু ভারত দাবি করে, রাম ভারতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বহুদিনের বিশ্বাসের ফলে আমরা মনে করি, সীতা ভারতের রামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বাস্তবে অযোধ্যা বীরগঞ্জের পশ্চিমের একটি গ্রাম। 

কাঠমাণ্ডুতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নকল অযোধ্যা তৈরি করে সাংস্কৃতিক সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও আনেন ভারতের বিরুদ্ধে। তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। 

সূত্র : জি ফাইভ ডটকম, এএনআই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা