kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

বেল্ট অ্যান্ড রোডের নামে চীনা রাজনৈতিক মডেল রপ্তানির চেষ্টা?

অনলাইন ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ১৭:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেল্ট অ্যান্ড রোডের নামে চীনা রাজনৈতিক মডেল রপ্তানির চেষ্টা?

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) আরো জোরাল অবস্থান তৈরি করছে। দেশটির সরকার আরো আক্রমণাত্মক ও কঠোর নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ও ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা। ‘ডিলিং উইথ দ্য ড্রাগন : চায়না অ্যাজ এ ট্রান্স-আটলান্টিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে এমন অভিমত উঠে আসে বলে জানা গেছে দি ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ১১টি দেশের ৪৩ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছিলেন। সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের মধ্যে সম্পর্কের পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ট্রান্স-আটলান্টিক উত্তেজনা, মার্কিন-চীন উত্তেজনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, বিআরআইর নামে কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক মডেল রপ্তানি করার চেষ্টা করছে চীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) আগের চেয়ে আরো দৃঢ় হয়েছে। তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোর হচ্ছে। পাশাপাশি তারা আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। উদাহরণস্বরূপ চীন আক্রমণাত্মক ‘উলফ ওয়ারিয়র ডিপ্লোমেসি’ মেনে চলছে। দেশের ভেতরেও অনেক এলাকায় চীন দমন-পীড়নমূলক আত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের এসব আচরণকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ভালোভাবে দেখছে না বলে জানানো হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চীন ও আমেরিকার দ্বন্দ্বে ইউরোপ কোনো না কোনোভাবে সমস্যায় পড়েছে। এই দেশ দুটির বিরোধে ইউরোপ কোন পক্ষে যাবে- সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ছে। এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউরোপকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নিজস্ব স্বায়ত্তশাসিত পথ খুঁজে পাওয়া উচিত।

চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ ইনিশিয়েটিভ 

চীনের উদ্যোগে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইকে বলা হচ্ছে এশীয় বিশ্বায়নের কর্মসূচি। সবচেয়ে বেশি দেশ, বিপুল বিনিয়োগ এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যাকে জড়িত করার এ পরিকল্পনা নিয়ে এটিই একুশ শতাব্দীর বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগের পাশাপাশি বিআরআই দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

বিআরআই দৃশ্যত যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঞ্চল ও করিডর প্রতিষ্ঠার প্রকল্প। সমালোচকদের মতে, তা আসলে চীনা পুঁজিবাদের বৈশ্বিক বিস্তারের পদক্ষেপ। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির জন্য হাজির করেছে অভূতপূর্ব সম্ভাবনাও।

বিআরআইয়ের মূল চাবিশব্দ হলো কানেকটিভিটি। এর উদ্দেশ্য, এশিয়াকে বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন করে তোলা। এ পরিকল্পনায় থাকছে সমুদ্রপথে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক বন্দর, ভূমিতে আন্তঃসীমান্ত সড়ক, উচ্চগতির রেলপথ, বিমানবন্দর এবং ডিজিটাল যুক্ততার অবকাঠামো নির্মাণ।

চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’র উদ্যোগকে ভিন্নভাবে দেখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উইরোপ। চীনের এমন কাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভৌগোলিক প্রভাব নিয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন ছিল। তবে ইউরোপীয়রা এই উদ্যোগের বাণিজ্যিক দিকগুলোতে নজর দিয়েছিল। তবে কিছু ইউরোপী ভালো চোখে দেখছে না এই উদ্যোগটিকে। তাদের মতে, বাস্তবে যা বলা হচ্ছে, তার চেয়েও অনেক কম। দক্ষিণ ও মধ্য ইউরোপের অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে ধীরগতিতে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কিছু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞের মতে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) -এর নামে চীন আসলে তার কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক মডেল সারা বিশ্বে রপ্তানি করার চেষ্টা করছে। 

সূত্র : ইকোনমিক টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা