kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

চাপে ন্যুব্জ আগ্রাসী চীন, কৌশলী অবস্থান ভারতের

অনলাইন ডেস্ক   

৭ আগস্ট, ২০২০ ১৩:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাপে ন্যুব্জ আগ্রাসী চীন, কৌশলী অবস্থান ভারতের

প্রতিবেশী দেশগুলোর জায়গা দখলের ব্যাপারে চীনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে ব্যাপক হারে উঠে এসেছে। পূর্ব চীন সাগরে জাপানকে চ্যালেঞ্জ করেছে চীন, দক্ষিণ চীন সাগরও নিজেদের দখলে রেখেছে এবং ভারতের সঙ্গে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে বিরোধ তো লেগেই আছে।

অন্যদিকে তাইওয়ানকে বারবার হুমকি দিচ্ছে, হংকংয়ের জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রেখে সাইবার হামলা চালানোর হুমকিও দিচ্ছে চীন।

তবে প্রথমবারের মতো কোয়াড (যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া মিলে নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম) চীনের আক্রমণাত্মক অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। দুটি আধুনিক বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরে পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এ ছাড়া পারস্পরিক বাণিজ্য যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় চীনের সংবেদনশীল প্রযুক্তির ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চীনাদের ওপর ঝুঁকি চাপিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। চীনের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উচ্চ প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরঞ্জাম স্থানান্তর ও বিক্রয় বন্ধ করে দিয়ে বেইজিংকে বেকায়দায় ফেলেছে ওয়াশিংটন।

এমনকি ভারতে চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য ও সাইট বন্ধের বিষয়টিকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হুয়াওয়ে থেকে শুরু করে জেডটিইর ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপেও যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পেয়েছে ভারত। 

অন্যদিকে চীনের তৈরি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিয়েছে জাপান। চীন থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিচ্ছে দেশটি। এতে করে বেইজিং ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। চীন থেকে সরে এসে ভারতের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে।

চীনের আগ্রাসন মাথায় রেখে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করছে অস্ট্রেলিয়া। ২৭০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে প্রতিরক্ষাসামগ্রীর উন্নতি করছে দেশটি। এদিকে দফায় দফায় কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের পরও সীমান্ত থেকে বাড়তি সেনা সরিয়ে নিচ্ছে না চীন। জায়গা দখর করে থাকার কারণে চীনের ওপর বেজায় চটে আছে মোদি সরকার।

তবে এই অঞ্চলে পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরো জোরদার করছে চীন। কাশ্মীর ইস্যুতে বরাবরই পাকিস্তানের পক্ষে থেকেছে বেইজিং। এ জন্য অনেকেই বলছেন, চীনে উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা উত্থাপন করা উচিত ভারতের।

এ পরিস্থিতিতে হংকংয়ের নাগরিকদের প্রতি সুনজর দিতে পারে ভারত। কারণ, হংকংয়ের নাগরিকদের বিশেষ সুবিধা তুলে দিয়ে নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দিয়েছে চীন সরকার।  

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, তাইওয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে ভারত। গত কয়েক মাসে চীন অবৈধভাবে ভারতের জায়গা নিজেদের দাবি করার পর ভারত যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে, তাতে বিশেষজ্ঞরাও সন্তুষ্ট। চীন ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপে যাওয়ার আগে যেন বারবার ভাবতে বাধ্য হয়, সে ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নেবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা