kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

আমার চোখের সামনেই মারা গেলেন রুমমেট

অনলাইন ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমার চোখের সামনেই মারা গেলেন রুমমেট

লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ জন সদস্যসহ ৯৯ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

যে দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন তাঁরা হলেন, মেহেদি হাসান রনি ও মিজানুর রহমান। মিজানের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর আর মেহেদির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

মেহেদি হাসান বৈরুতের আশরাফিয়া এলাকার একটি আটতলা ভবনের নিচতলায় থাকতেন। কাজ করতেন সেখানকারই একটি স্প্যানিশ সুপারশপে। তাঁর সঙ্গে থাকতেন আরেক বাংলাদেশি সুজন হোসেন। তিনিও ওই এলাকার একটি জুস কারখানার শোরুমে কাজ করেন। সুজন জানান, তাঁদের বাসা থেকে বিস্ফোরণের স্থল বৈরুত পোর্ট তিন কিলোমিটার দূরে। ‘আমি বাসা থেকে বের হয়ে আমার কর্মস্থলে যাচ্ছিলাম। আমার রুমমেট তখন কর্মস্থলে ছিল। আমি হেঁটেই যাচ্ছিলাম। সন্ধ্যা ৬টার একটু বেশি হবে। ঠিক তখনই বিস্ফোরণের শব্দ। দূরে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। আমার চারপাশের ভবনের কাচ, জানালা সব ভেঙে পড়ছিল। আমি দ্রুত একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিই।' বললেন সুজন।

এর কিছুক্ষণ পর বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেলে তিনি শোরুমে যান। গিয়ে দেখেন শোরুমটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি তাঁর রুমমেট মেহেদির আহত হওয়া ও হাসপাতালে নেওয়ার খবর পান। পরে মেহেদি মারা যান। তাঁর অফিস থেকে মেহেদির অফিস দুই মিনিটের হাঁটা পথ। সুজন বলেন, ‘ওই ভবনে আরো অনেকে ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশ বের হতে পারলেও মেহেদি বের হতে পারেনি। সম্ভবত কাচ ভেঙে পড়ায় তার আঘাতে তিনি মারা যান।’

মেহেদির লাশ এখন মাউন্ট লেভেন হসপিটালে আছে। সুজন বলেন, ‘আমি এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছি। আমি বেঁচে আছি। কিন্তু আমার রুমমেট ভাই তো মারা গেল। আমি সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভুলতে পারছি না।’

সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা