kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

২০০৮ সালের মন্দায় আড়াই বিলিয়ন ডলার আয়, এবার তাঁর বাজি করোনা টিকায়

অনলাইন ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০২০ ১২:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০০৮ সালের মন্দায় আড়াই বিলিয়ন ডলার আয়, এবার তাঁর বাজি করোনা টিকায়

২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে নিজের দৃঢ় বিশ্বাস ও বিশ্লেষণী মস্তিষ্কের বদৌলতে আড়াই বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েছেন স্টিফেন ডিগল। এবার করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের ব্যাপারে বাজি ধরেছেন তিনি।

জানা গেছে, অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা প্রাইভেট লিমিটেডের বেশিরভাগ শেয়ারের মালিক স্টিফেন ডিগলের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ভাল্পস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড। করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের ব্যাপারে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে কাজ শুরুর পর দাম বেড়ে গেছে অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারের।

২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দার সময় আড়াই বিলিয়ন ডলার কামিয়েছে ভাল্পস ইনভেস্টমেন্ট। স্টিফেন ডিগল বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা করোনার টিকা আবিষ্কারে সফল হবে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তে আমরা কাউকে পাশে পাইনি। অবশ্যই আপনি সাহায্য করতে পারেন না, তবে নিজের বিচারকে প্রশ্ন তো করতে পারেন।

স্টিফেন ডিগল কিন্তু ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত  ব্যাপক অর্থ আয় করেছেন এক ধরনের বাজি ধরেই। তখনো এ ধরনের অনুভূতি কাজ করেছে তার। সে সময়ই নিজের সিদ্ধান্তের সমর্থন পাননি, কিন্তু আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন।

স্টিফেন ডিগল ও তার বড় ভাই মার্টিন ২০০০ সালে অক্সফোর্ড বায়োমেডিকাতে অর্থায়ন করেন। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি কেবল ক্ষতির মুখ দেখছিল। কিন্তু ডিগল তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পছন্দ করতেন। ক্যান্সার চিকিৎসায় তাদের দেখানো পথে সুফল পাওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদী ছিলেন।

২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বেশ ভালো অর্থ কামিয়েছে। অবশ্য স্যানোফির সঙ্গে যৌথভাবে ক্যান্সারের ভ্যাকসিন তৈরি করে বেশ ক্ষতির মুখে পড়ে অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা।

ভাল্পস ইনভেস্টমন্টে সবসময় চেষ্টা করেছে অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা ঠিক রাখতে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে যারা অর্থ লগ্নি করেন, যারা সেখান থেকে ভালো অঙ্কের অর্থ লাভ করেছেন, তারাও একসময় আগ্রহ হারান। শেষ পর্যন্ত কেবল ডিগলের পরিবার ওই প্রতিষ্ঠানে অর্থ দিতে থাকে। অবশ্য কিছু বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার পাশে ছিল।

এদিকে ২০১৩ সালে এসে ভাল্পস ইনভেস্টমেন্টের শেয়ার দর ২৮ শতাংশ বেড়ে যায়। স্টিফেন ডিগল বলেন, আমরা তখনো মনে করতাম বিজ্ঞান অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী। কিন্তু কেউ তাতে আস্থা রাখতে পারছিল না। কিন্তু বর্তমানে অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা সফল হওয়ার পথে। গত কয়েক বছরে বড় ধরনের বেশ কিছু আবিষ্কার উপহার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ বাচ্চাদের লিউকোমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অক্সফোর্ড বায়োমেডিকার থেরাপি অনুমোদন দেয়। এতে করে অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা আরেকবার আর্থিকভাবে লাভবান হয়।

এ বছরের এপ্রিলে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে করোনা টিকা উদ্ভাবনের ব্যাপারে চুক্তি করে। দুই বিলিয়ন ডোজ তৈরির জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকা যাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তার মধ্যে অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা রয়েছে।

ডিগল মনে করেন, আমার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি যে, অক্সফোর্ড বায়োমেডিকাকে এ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এটির দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা খুব তাৎপর্যপূর্ণ বিনিয়োগকারী হিসেবে থাকতে চাই। ডিগল মনে করেন, অক্সফোর্ড বায়োমেডিকা করোনা টিকা উদ্ভাবনে সফল হবে এবং এতে করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে যাবে।

সূত্র : লাইভমিন্ট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা