kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

একজন প্রেসিডেন্টকে সরাতে এক উদ্ভট ষড়যন্ত্র

অনলাইন ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০২০ ১১:২২ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



একজন প্রেসিডেন্টকে সরাতে এক উদ্ভট ষড়যন্ত্র

চলতি বছরের ৩ মে রবিবার। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার ঘোষণা করে, তাদের সামরিক বাহিনী একটি সশস্ত্র আগ্রাসন প্রতিহত করেছে। অপারেশন গিডিওন নামের ওই আক্রমণ ছিল সরকার উ‌ৎখাতের খুব আনাড়ি এক প্রচেষ্টা। 

শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি আসলে ব্যর্থ হতে চলেছে, এই অভিযানে যাওয়া মানে অনেকটা আত্মহত্যার শামিল। কিন্তু তার পরও কেন ভেনিজুয়েলার নির্বাসিত কিছু লোক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সাবেক কিছু সেনা এ রকম এক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল?

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শতকে লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে রাষ্ট্রনায়কদের হত্যা, অপহরণের নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। গত মে মাসের ঘটনা যেন অবিকল সে রকমই আরেক ষড়যন্ত্র।

১৯৬১ সালে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারকে উ‌ৎখাতের জন্য যে ব্যর্থ অভিযান চালানো হয়, সেটি 'বে অব পিগস অভিযান' নামে পরিচিত। পুরোপুরি মার্কিন অর্থ সহায়তায় এবং মদদে সেই অভিযান চালানো হয়েছিল। 

একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, গত মে মাসে অপারেশন গিডিওন নামের অভিযানটি এতটাই কাঁচা ছিল যে, তার তুলনায় কিউবায় বে অপ পিগস অপারেশনকে মনে হবে যেন 'ডি ডে অভিযান‌' (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের বাহিনীর বিরুদ্ধে মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত আচমকা আক্রমণের অংশ হিসেবে হাজার হাজার সৈন্যের ফ্রান্সের নর্মান্ডি উপকূলে অবতরণ)।

অপারেশন গিডিওন হচ্ছে ঔদ্ধত্য, আনাড়িপনা আর বিশ্বাসঘাতকতার এক বিস্ময়কর কাহিনী। ভেনিজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনী উপকূলীয় শহর মাকাটোতে আটজনকে গুলি করে হত্যা করে। আটক করে আরো বেশ কয়েকজনকে। এরা এখন কারাকাসে জেলখানায় বন্দি রয়েছে। 

অল্প কয়েকজন পালিয়ে যেতে পেরেছিল। তখন সারা পৃথিবী ব্যস্ত ছিল করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে। সে কারণে এ ঘটনা যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল, গণমাধ্যমের ততটা মনোযোগ পায়নি লাতিন আমেরিকার বাইরে।

এই ব্যর্থ অভিযানের কেন্দ্রে ছিলেন মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের একজন সাবেক সৈনিক জর্ডান গাউড্রু্। জর্ডান গাউড্রু তিনবার ব্রোঞ্জ পদক জয়ী মার্কিন সেনা। যুদ্ধ করেছেন আফগানিস্তানে এবং ইরাকে। দক্ষ শুটার। একই সঙ্গে প্রাথমিক জরুরী চিকিৎসা দেয়ার প্রশিক্ষণও রয়েছে তার।

অপারেশন গিডিওন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে তাকে গর্বের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, কলম্বিয়ার সীমান্ত থেকে আমরা এক দুঃসাহসিক উভচর অভিযান শুরু করেছি। আমাদের লোকজন ক্রমাগত লড়াই করে চলেছে। ভেনিজুয়েলার দক্ষিণে, পশ্চিমে এবং পূর্বে আমাদের ইউনিটগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এই দাবির মধ্যে কোনো সত্যতা ছিল না। ভেনিজুয়েলায় তাদের কিছু সমর্থককে হয়তো আভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই অভিযানে আসলে ছিল ৬০ জনেরও কম পুরুষ আর একজন মাত্র নারী। তাদের অস্ত্র ছিল খুবই কম। আর যখন এই দাবি তিনি করছেন, ততক্ষণে তাদের অভিযানে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, শুরু হয়ে গেছে রক্তারক্তি।

জর্ডান গাউড্রু ২০১৮ সালে 'সিলভারকর্প ইউএসএ' নামে একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কম্পানি গড়ে তোলেন। এটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গেলে দেখা যায়, দুর্ধর্ষ সব সামরিক তৎপরতার ছবি। রানিং মেশিনের ওপর জর্ডান গাউড্রুর দৌড়ানোর ছবিও সেখানে আছে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার কম্পানিকে একটি কনসার্টের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এই কনসার্টটি হচ্ছিল কলম্বিয়ার ভেনিজুয়েলা সীমান্তে। কনসার্টটির স্পন্সর ছিল রিচার্ড ব্র্যানসন। ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি তখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। খাদ্য সঙ্কটে মানুষ দিশেহারা। মৌলিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে কলম্বিয়া চলে যাচ্ছে। কনসার্টটির উদ্দেশ্য ছিল ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা, যাতে সে দেশে মানবিক ত্রাণ পাঠানো যায়।

জর্ডান গাউড্রু তখন তার কম্পানির ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে একটি ভিডিও আপলোড করে লেখেন, ভেনিজুয়েলা সীমান্তে আমরা বিশৃঙ্খলা সামাল দিচ্ছি যখন কিনা এক স্বৈরশাসক শঙ্কা নিয়ে তাকিয়ে আছে। স্বৈরশাসক বলতে এখানে তিনি ইঙ্গিত করছিলেন নিকোলাস মাদুরোকে।

ভেনিজুয়েলার বহুধা বিভক্ত বিরোধী রাজনৈতিক শিবির তখন এক ভালো সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই কনসার্টের আগে নিজেকে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছেন বিরোধী নেতা হুয়ান গোয়াইদো। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৫০টির বেশি দেশ হুয়ান গুয়াইদোর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।

হুয়ান গুয়াইদো আশা করছিলেন, রিচার্ড ব্র্যানসনের স্পন্সর করা কনসার্ট যে ত্রাণ বহর পাঠানোর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিল, সেটি তাকে ক্ষমতায় বসাতে সাহায্য করবে। কিন্তু এই ত্রাণ বহর সীমান্তেই থামিয়ে দেয়া হয়। সেখানে সহিংসতা শুরু হয়। এপ্রিলের শেষে যে বিদ্রোহের চেষ্টা হয়েছিল, সেটাও বিফল হয়। কাজেই হুয়ান গুয়াইদোর সমর্থকরা তখন ছক কাটতে থাকেন, কিভাবে আচমকা সামরিক অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায়।

এজন্যে প্রথম প্রশিক্ষণ শিবিরটি স্থাপন করা হয় জুন মাসে কলম্বিয়ার মাইকাও শহরে। ভেনিজুয়েলার পার্লামেন্টের এক নির্বাসিত সদস্য হারনান এইলম্যান গত মাসে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়ার আগে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের বর্ণনা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে।

'সেখানে লোকজন শারীরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল, নানা ধরনের জ্ঞান অর্জন করছিল। কিন্তু আমাদের অনেক অর্থনৈতিক সঙ্কট ছিল। মাঝে মধ্যে আমরা দিনে মাত্র দু'বার খাবার দিতে পারতাম। আমরা যেখানে যখন সম্ভব চাঁদা তুলছিলাম। আমি আমার গাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করে দিয়েছিলাম।'

এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থের দরকার ছিল। তখন সামনে এগিয়ে আসলেন জর্ডান গাউড্রু। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ততদিনে ভেনিজুয়েলার নির্বাসিত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেলেছেন।

জুলাই মাসে কলম্বিয়া সফরে যান জর্ডান গাউড্রু। সেখানে তার পরিচয় হয় জেনারেল ক্লাইভার আলকালার সঙ্গে, যিনি এই প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা। জেনারেল ক্লাইভার আলকালা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পূর্বসুরি ইউগো শ্যাভেজের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তখন তিনি দেশ থেকে পালিয়ে নির্বাসনে যান।

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সরাতে হাত মেলালেন এই দুজন। হারনান এইলম্যান এই সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করছিলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললাম। আমরা ভেনিজুয়েলার ক্ষমতার শীর্ষের কিছু ব্যক্তিকে একটা অভিযান চালিয়ে ধরে ফেলবো, তারপর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেব। তখন হুয়ান গুয়াইদো অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন, তারপর ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন হবে।

জর্ডান গাউড্রু বলেন, অর্থ জোগাড় করার দায়িত্ব তার। এর পরবর্তী বৈঠকগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে। এবারের বৈঠকে হুয়ান গুয়াইদের প্রেসিডেনশিয়াল কমিশনের লোকজনও ছিল। এই কমিশনে কাজ ছিল কিভাবে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে ফেলে দেয়া যায়, গোপনে তার নানা উপায় খুঁজে বের করা।

'আমরা প্রায় ২২ ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করলাম। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ পরিকল্পনায় ছিল শক্তি প্রয়োগের কথা', বলেন ভেনিজুয়েলার এক কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কৌশলবিদ জে. জে. রেনডন।

'আমরা সিলভারকর্প ছাড়া আর কোনো সামরিক ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলিনি। তবে আমরা তাদের যাচাই করে দেখেছি। এমনকি আমরা ফরেন লিজিয়নের কথাও ভেবে দেখেছি।'

জর্ডান গাউড্রু বলেছিলেন, এরকম একটা সামরিক অভিযানের পেছনে অর্থ ঢালতে রাজি অনেক ব্যবসায়ী। তারা ভেবেছিল, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপসারণের পর হুয়ান গুয়াইদো যখন ক্ষমতায় আসবেন, তখন তারা ব্যবসায়িক ফায়দা তুলতে পারবেন।

২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরা‌‌, আটক করা বা ক্ষমতা থেকে সরানোর কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে তার জায়গায় হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদে বসানো। এই কাজের জন্য জর্ডান গাউড্রুকে শুরুতে দেয়া হবে দেড় মিলিয়ন বা পনের লাখ ডলার। কাজ শেষে পাবেন ২০ কোটি ডলার।

এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে যারা জানতেন, তারা ছিলেন উল্লসিত। 'বহু বছর ধরে আমরা ছিলাম একা। আমাদের লড়তে হচ্ছিল নিজেদের অর্থে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে আমরা কোনো সমর্থন পাচ্ছিলাম না', বলছিলেন ভেনিজুয়েলার ন্যাশনাল গার্ডের নির্বাসিত সাবেক ক্যাপ্টেন হাভিয়ের নিয়েতো। তার বিরুদ্ধে একবার ইউগো শ্যাভেজকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। এজন্য তাকে জেলও খাটতে হয়।

'কিন্তু এবার আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম। কারণ এই পরিকল্পনায় জে. জে. রেনডন, হুয়ান গোয়াইদো আর তার টিমের সমর্থন ছিল।'

কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই বিবাদ শুরু হয়ে যায়। জর্ডান গাউড্রু তার ১৫ লাখ ডলার পাওনা দাবি করেন। কমিশন তার আগে দেখতে চাইলো, যারা এই ষড়যন্ত্রে অর্থ জোগাবে, তারা কারা এবং এর প্রমাণ। কিন্তু জর্ডান গাউড্রু কোনো প্রমাণ দেখাতে পারলেন না। মায়ামিতে জে. জে. রেনডনের সাগর তীরের এক বাড়িতে একটি বৈঠক শেষ হলো বেশ খারাপভাবে।

জে. জে. রেনডন জানান, জর্ডান গাউড্রুর মেজাজ বিগড়ে গেল, তিনি খুব আচরণ করতে লঅগলেন অন্যদের প্রতি। রেনডন বলেন, গত বছরের ৮ নভেম্বর আমাদের শেষ বৈঠকটি ছিল বেশ অস্বস্তিকর। তখন আমি বললাম, আমাদের কোনো কিছুই আসলে আগাচ্ছে না। আমি চাই আপনি আমার বাড়ি থেকে চলে যান। এসব সত্ত্বেও জর্ডান গাউড্রুকে ৫০ হাজার ডলার ওদওয় হয় খরচ মেটানোর জন্য।

হুয়ান গুয়াইদোর প্রেসিডেনশিয়াল কমিশনের কাছে তখন জর্ডান গাউড্রুর সঙ্গে করা চুক্তিটির আর কোনো মূল্য নেই। কিন্তু জর্ডান গাউড্রু তা মনে করেন না। তারা তখন কলম্বিয়ায় তিনটি প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছেন।

জর্ডান গাউড্রুর রিক্রুট করা মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের দু'জন সেনা এ বছরের জানুয়ারিতে কলম্বিয়ায় এসে পৌঁছায়। এদের একজন লুক ডেনম্যান। ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সামরিক বাহিনী ছেড়ে চালকের কাজ করার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সামরিক জীবন তিনি ছাড়তে পারলেন না।

ডেনম্যানের বোন সারাহ ব্লেক জানান, সামরিক বাহিনীর দিনগুলো খুব মিস করছিলেন লুক। 'আমার মনে হয় সে আসলেই সামরিক বাহিনীতে লোকজনের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠ বন্ধন , সেটা খুব মিস করতো। কারণ ওরা একসঙ্গে থাকে, ঘুমায়, নিঃশ্বাস নেয়, নিজের জীবন দিয়ে একে অন্যকে বিশ্বাস করে। জর্ডান ছিল তার দলের জরুরী চিকিৎসা কর্মী। লুক এদেরকে তার ভাইয়ের মতো করে ভাবতো। খুবই বিশ্বাস করতো।'

'আমরা যেটা জানি, জর্ডান একদিন লুককে ফোন দিয়েছিল এবং বুঝিয়েছিল, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ তারা করতে যাচ্ছে। এই কাজ করতে পারলে ভেনিজুয়েলার মানুষের জীবন পাল্টে দেয়া সম্ভব হবে। লুক আমার বাবাকে ফোন করে জানিয়েছিল ও একটা চাকরি নিতে যাচ্ছে এবং এটা তার জীবনের সবচেয়ে অর্থপূর্ণ একটি কাজ হতে যাচ্ছে।'

সারাহ ব্লেকের বিশ্বাস, তার ভাইকে জর্ডান গাউড্রু ভুল বুঝিয়েছিল। লুক ডেনম্যান এখন কারাকাসের জেলখানায় বন্দী। 'ওরা আমার ভাইকে জানিয়েছিল এটি মার্কিন সরকারের মদদপুষ্ট একটি অভিযান।'

জানা গেছে, প্রশিক্ষণ শিবিরে ছিল যে ভেনিজুয়েলানরা, তাদেরও বিশ্বাস ছিল যে মার্কিন সরকারের মদদে এই অভিযান চালানো হবে। অপর ভাড়াটে মার্কিন সেনা, আইরান বেরির বিশ্বাসও ছিল তাই।

কিন্তু আসলে এর কোনো সত্যতা ছিল না। চলতি বছরের মার্চ মাসেও এই অভিযানের জন্য কোনো ভালো তহবিল পাওয়া গেল না। যদিও দুজন ভাড়াটে মার্কিন সেনা এই অভিযানে যুক্ত হয়েছে, ২০ জনের মতো ভেনিজুয়েলান তখন দল ছেড়ে চলে গেছে। কারো কারো প্রশিক্ষণ শিবিরের জীবন খুব কষ্টকর বলে মনে হচ্ছিল। কেউ কেউ সন্দেহ করছিল, এই পুরো পরিকল্পনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সমর্থকরাও ছদ্মবেশে ঢুকে গেছে। তখন সবকিছু পণ্ড হওয়ার উপক্রম।

এরপর ২৩ মার্চ কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ একটা লরিভর্তি সামরিক সরঞ্জাম আটক করল। এর মধ্যে অনেক অ্যাসাল্ট রাইফেলও ছিল। তিনদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট ফর জাস্টিস জেনারেল ক্লাইভার আলকালার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনল। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হলো।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা