kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

ফ্রান্সিসকা মেরিনোর লেখা থেকে সংক্ষেপিত

ইচ্ছা করেই বেফাঁস কথা বলেন চতুর ইমরান খান?

অনলাইন ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইচ্ছা করেই বেফাঁস কথা বলেন চতুর ইমরান খান?

ফাইল ছবি।

সম্প্রতি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলা নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কয়েক সপ্তাহ আগে এক টুইট পোস্ট করেছিলেন। করাচি স্টক মার্কেটে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) হামলার বিষয়ে মন্তব্য করে ইমরান খান লেখেন, আমি আমাদের সাহসী পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের সালাম জানাই, যাঁরা করাচির পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে ‘প্রশংসনীয়’ সন্ত্রাসী হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছেন।

কয়েক মিনিট পরই ইমরান খান তাঁর টুইট পোস্টটি মুছে ফেলেন। এরপর তিনি আরো একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ‘প্রশংসনীয়’ (কমেন্ডবল) শব্দটির বদল করে ‘নিন্দনীয়‘ (কনডেমনাবল) শব্দটি ব্যবহার করেন। কিন্তু যা হওয়ার তাই হয়েই গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের একবার হাসির পাত্র হয়ে গেলেন তিনি। কিন্তু এই শব্দ ব্যবহার মামুলি বিষয় নয় বা কথার ছলে তিনি ব্যবহার করেছেন বিষয়টি এ রকম নয়।

একসময় ইমরান খান মেরি এবং ফয়েজ বালুচির পক্ষ নিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালের ঘটনা, ইমরান খান তখন দেশটির রাজনৈতিক দল মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের চেয়ারম্যান। তখন যুক্তরাজ্যে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার মামলায় মেরি এবং ফয়েজ বালুচির পক্ষ নিয়ে সক্ষ্য দেন ইমরান খান।

হেনরি ব্ল্যাক্সল্যান্ড কিউসির (মেরির আইনজীবী) কথাবার্তার রেকর্ড অনুসারে, ইসলামাবাদ থেকে আসা একটি ভিডিও কলে ইমরান খান বলেন, বেলুচিস্তানে শত শত মানুষ নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। বেলুচিস্তানকে পাকিস্তানের অংশের চেয়েও বেশি গণ্য করা হতো কলোনি হিসেবে। হেনরি ব্ল্যাক্সল্যান্ড কিউসির কথায়, সামরিক বাহিনীর দখল, রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র সেনানিবাসের বর্ণনা দিয়ে তিনি স্থায়ী দখলদারির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।

ইমরানের কথায়, যদি তিনি বেলুচিস্তানি হিসেবে জন্মগ্রহণ করতেন, তবে তিনি হয়তো অস্ত্র হাতে তুলে নিতেন। তিনি বলেন, আমার মানুষের অধিকার রক্ষা করুন। আমি মনে করি, সংসদে যদি আমি ঢুকতে না পারি তাহলে তার সবচেয়ে বড় কারণ হবে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি।

বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখন সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তিনি মানবাধিকার রক্ষায় নিজের বিচারবুদ্ধিকে স্লিপস অব টাং হিসেবেই প্রকাশ করতে পারেন।

বর্তমান ইমরান খান সরকার দেশটিতে হামলাকে প্রশংসনীয় বলে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) সমর্থন করছে। আর হামলার জন্য দায়ী করছেন ভারতকে। অন্যদিকে বিএলএর যোদ্ধারা আফগান অস্ত্রের বাজার থেকে চীনা ও রাশিয়ান অস্ত্র কিনে মাঠে নামছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কৌশলগত হতে পারে। অপরাধীরা প্রথমে নির্মম উপায়ে নিজেদের শক্তি ব্যবহার করছে। পরে সরকারি বিবৃতি জারি করা হচ্ছে। তখন দেশটির নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কিছু অংশকে সন্তুষ্ট করতে ‘স্লিপ অব টাং’ ব্যবহার করছেন।

পাকিস্তান বিশৃঙ্খল কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। যেখানে সব কিছু সম্ভব। যেকোনো অপরাধকে ন্যায্য প্রমাণ করা যেতে পারে এবং একই সঙ্গে যেকোনো সময় তা স্বাচ্ছন্দ্যে অস্বীকার করা যায়। এটিই পাকিস্তানের কৌশল।

(ফ্রান্সিসকা মেরিনো হলেন সাংবাদিক এবং দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তিনি বি নাটালের সঙ্গে যৌথভাবে ‘অ্যাপোক্যালিপস পাকিস্তান’ নামক বইটি লিখেছেন।)

সূত্র : দ্য কুইন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা