kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের জন্য বিয়ের 'মঙ্গলসূত্র' বেচে টিভি কিনলেন মা!

অনলাইন ডেস্ক   

১ আগস্ট, ২০২০ ১৯:৩৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের জন্য বিয়ের 'মঙ্গলসূত্র' বেচে টিভি কিনলেন মা!

দরিদ্র পরিবার। ঘরে টিভি পর্যন্ত নেই। এদিকে করোনা সংক্রমণ রুখতে বন্ধ স্কুল! পড়াশোনার জন্য‌ ভরসা অনলাইন ক্লাস বা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের বিশেষ ক্লাস। ‌স্কুলের শিক্ষকরাও জানান, সন্তানদের পড়াতে টিভি কেনা প্রয়োজন। তাতে স্কুল বন্ধ থাকলেও ক্লাস করতে পারবে তারা। কিন্তু টিভি কেনার যে অর্থ নেই! টিভি কিনতে তাই নিজের মঙ্গলসূত্রটাই বন্ধক দিলেন কস্তুরি চালাভাদি নামের এক মা। ঘটনাটি ভারতের কর্ণাটকের নারগুন্দ তালুকের রাড্ডার নাগানুর গ্রামের।

এ ঘটনা থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, করোনাভাইরাস মানুষের দরিদ্রতাকে আরো কতটা বাড়িয়ে তুলেছে। কস্তুরি নামের ওই নারী ও তাঁর স্বামী কনস্ট্রাকশন শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর কন্যা নবম শ্রেণিতে পড়ে এবং ছেলে পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে।

করোনাভাইরাসের আবহে তাঁর সন্তানরা যাতে টেলিভিশনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেখতে পারে, সে জন্যই সে তার মঙ্গলসূত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। এত দিন পর্যন্ত তারা প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে তাদের টিভিতে অনুষ্ঠানগুলো দেখত। কিন্তু ওই একই সময়ে প্রতিবেশীরা টিভির অন্য অনুষ্ঠান দেখার কারণে তাদের টিভিতে টেলিকাস্ট হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস মিস করতে হয়। তাই কোনো রকম উপায় না দেখে কস্তুরি তাঁর মঙ্গলসূত্রটি বিক্রি করে একটি টিভি কিনে ফেলেন।

টেলিভিশনের চন্দনা চ্যানেলে সরকারি স্কুলের তরফ থেকে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। করোনাভাইরাসের আবহে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার জন্যই এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সরকারি তরফ থেকে। ২০ হাজার টাকায় মঙ্গলসূত্রটি বিক্রি করে কস্তুরি ১৪ হাজার টাকা দিয়ে একটি টিভি কিনেছেন, আর বাকি টাকাটা সংসারের প্রয়োজনে খরচ হয়ে গেছে।

ঘটনাটি শুনে ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ সিসি পাটেল জানিয়েছেন, কস্তুরিকে সরকার থেকে সব রকম সাহায্য করা হবে। চিফ মিনিস্টার এবং জেডিএস লিডার এইচ ডি কুমারস্বামী জানান, 'এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে এই মহামারির সময় কিভাবে দরিদ্র মা-বাবারা ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।' কস্তুরি যার কাছে গয়নাটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁকে গয়নাটি ফেরত দিয়ে দেবেন।

সূত্র : ভারত বার্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা