kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

ব্রিটিশ সাংবাদিকের মন্তব্য

উইঘুরদের ওপর চীনের নির্যাতন নিয়ে মুসলিম দেশগুলো চুপ কেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১১:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উইঘুরদের ওপর চীনের নির্যাতন নিয়ে মুসলিম দেশগুলো চুপ কেন?

মুসলমান দেশগুলো শুধু নিজেদের স্বার্থেই ‘মুসলিম ঐক্যের’ ধারণাটি ব্যবহার করে। অথচ চীনের জিনজিয়াংয়ে বসবাসরত লাখ লাখ মুসলমান সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করে আসছে বেইজিং। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই নীরব মুসলমান দেশগুলো। এমন মন্তব্য করেছেন দ্য গার্ডিয়ানে কর্মরত এক ব্রিটিশ সাংবাদিক কোহেন। 

মুসলমানদের নীরবে নিপীড়িত হওয়ার প্রধান কারণ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ যে দেশগুলো রুশদি, জিল্যান্ডস পোস্টেন এবং চার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে ক্রোধে ফেটে পড়েছে, সেগুলো এখন নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা ‘মুসলিম ঐক্যের’ ধারণাটি তখনই ব্যবহার করে, যখন নিজেদের স্বার্থে দরকার হয়।

জিনজিয়াংয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর অনুমতি দিতে চীনকে আহ্বান জানিয়েছিলো জাতিসংঘ। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, আলজেরিয়া এবং অন্য মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো, যারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে দাবি করে, তারাই এ পশ্চিমা সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তা রুখে দিয়েছিল। ইরান মাঝে মধ্যে সমালোচনা করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা চীনের সহায়তা চায় বলে খুব সতর্কতার সঙ্গে  অভিযোগ জানায়।

জাতিসংঘে চীনের কণ্ঠ এখন আরও সক্রিয় এবং প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে কারণ অসংখ্য দেশ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ অবকাঠামোগত প্রকল্পের কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে লাভবান হচ্ছে। ২০১০ সালে নরওয়ে এবং চলতি বছর অস্ট্রেলিয়া কভিড-১৯ এর উৎপত্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়ে চীনের বিরুদ্ধে গেলেই সাইবার হামলা এবং নিষেধাজ্ঞার শিকার হতে হয়। তাই সুফল ভোগ করা এবং সাজা এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয় মনে হয় তাদের কাছে।

সবশেষে ওই সাংবাদিক বলেন, চীনা বিশ্ব পাবলিসিটি থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাওয়া নিপীড়কদের পছন্দ। আমরা আমাদের জনগণের সঙ্গে কী করি, তা নিয়ে তোমরা কিছু বলবে না এবং তাহলে তোমরা তোমাদের দেশের মানুষের সঙ্গে কী করো, তা নিয়ে আমরাও কিছু বলবো না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা