kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হেসে বললেন- নো কমেন্টস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ জুলাই, ২০২০ ০৯:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হেসে বললেন- নো কমেন্টস

সজ্জনারকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এ ধরনের মিম

তার মোবাইলের কলার টিউন হলো- ওয়েলকাম টু পিপল-ফ্রেন্ডলি পুলিশ, তেলেঙ্গানা পুলিশ। গতকাল স্থানীয় সাংবাদিকরা সারা দিনে বারবার ফোন করে কলারটিউন মুখস্থ হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে সন্ধ্যায় সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনারকে ফোনে পান। কল রিসিভ করেই হাসি। বলে ওঠেন, সারা দিন এ ব্যাপারেই ফোন আসছে। কিন্তু আমার দিক থেকে, নো কমেন্টস।

মোবাইলে কল আসার কারণ হলো- শুক্রবার ভোরে ভারতের উত্তর প্রদেশের পুলিশের এনকাউন্টারে কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে নিহত হওয়ার পর  সোশ্যাল মিডিয়ায় একটাই নাম নিয়ে আলোচনা। আইপিএস অফিসার ভি সি সজ্জনার। 

বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে ‘বিখ্যাত’ বা ‘কুখ্যাত’ এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট তিনিই। সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার তিনি। এ ঘটনায় অনেকেরই গত বছরের ৬ ডিসেম্বরে হায়দরাবাদের এনকাউন্টারের ঘটনা মনে পড়ে গেছে। ঘটনাচক্রে সেদিনও ছিল শুক্রবার।

তেলেঙ্গানার শামসাবাদের টোল প্লাজার কাছে এক চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে দুস্কৃতকারীরা। তারপর তার শরীরে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। 

কিন্তু ৬ ডিসেম্বর ভোররাতে পুলিশের এনকাউন্টারে চারজনই মারা যায়। সজ্জনার দাবি করেছিলেন, তদন্তের জন্য চার অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। বিকাশ দুবের এনকাউন্টারের পর সজ্জনারের ছবি নিয়ে মিম তৈরি হয়েছে, কর ও রাহে হ্যায়, লেকিন তরিকা হামারা হ্যায়।

এনকাউন্টারের ঘটনা সাজানো বলে অভিযোগ ওঠার পর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ভি এস সিরপুরকারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনের নির্দেশ দেয়। সেই তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। 

সাংবাদিকরা জানতে চান, আপনি কি মনে করেন, উত্তর প্রদেশ পুলিশ ঠিক কাজ করেছে? সজ্জনার হাসতে হাসতে বলেন, আমি এ নিয়ে এখন কিছু বলব না।

সবাই তো বলছে, উত্তর প্রদেশ পুলিশ তেলেঙ্গানার এনকাউন্টার দেখেই শিক্ষা নিয়েছে। সজ্জনার বলেন, তেলেঙ্গানার এনকাউন্টার এখনো আদালতের বিচারাধীন বিষয়। তাই এ নিয়ে আমার মুখ খোলা উচিত হবে না। কমিশনের তদন্ত শেষ হোক। তার পরে যা বলার বলব।

২০০৮ সালে অন্ধ্র প্রদেশের ওয়ারাঙ্গলে কলেজছাত্রীদের ওপর এসিড হামলায় অভিযুক্তদের এনকাউন্টার, ২০১৫ সালে নালগোন্ডায় সিমি বিকারুদ্দিন আহমেদের এনকাউন্টার, ২০১৬ সালে মাওবাদী নেতা নঈমুদ্দিনের এনকাউন্টার—একাধিক অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সজ্জনার। 

কিন্তু হায়দরাবাদ এনকাউন্টারের পরে সজ্জনার ‘সিংহাম’-এর তকমা পেয়েছিলেন। দক্ষিণী ছবির নায়িকারা সজ্জনারের ‘ইনস্ট্যান্ট পানিশমেন্ট’ নীতির জন্য তাকে দক্ষিণী সেলুলয়েডের নায়ক বিজয়ের সঙ্গেও তুলনা করেন।

এসব শুনে সজ্জনার শুধু হাসেন। আর বলেন, নো কমেন্টস।

সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা