kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলছে শিনচিয়াংয়ে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ জুলাই, ২০২০ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলছে শিনচিয়াংয়ে

ফাইল ছবি।

চীন সরকার গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে জোর করে ইস্ট তুর্কিস্তান (বর্তমানে শিনচিয়াং হিসেবে পরিচিত) নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। বর্তমানে সেখানে বসবাস করে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষ। অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি উইঘুর মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে। প্রতিবাদ জানালেই তাদের আটকে রাখা হচ্ছে বন্দিশালায়; শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে অনেকের। এমনকি উইঘুরদের পক্ষে কথা বলায় শিনচিয়াংয়ের বিখ্যাত কবি কুই চুই হাওজিনকেও আটক করা হয়।

শিনচিয়াংয়ে যেসব বন্দিশালা খোলা হয়েছে, সেগুলোতে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ। বিদেশি কোনো গণমাধ্যমকেও সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। নির্যাতনের মুখে এরই মধ্যে শিনচিয়াং ছেড়ে পালিয়েছে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ।

অভিযোগ উঠেছে, সেখানকার সংস্কৃতি ধ্বংস করতে বৌদ্ধ মেয়েদের বিয়ে করার জন্য উইঘুর মুসলমানদের বাধ্য করা হচ্ছে। জোর করে গর্ভপাত করানো হচ্ছে উইঘুর নারীদের। বন্দিশালা থেকে মুক্তির আগে নারীদের বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে তারা ভবিষ্যতে সন্তান ধারণ করতে না পারেন। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি খেতেও বাধ্য করা হচ্ছে অনেক নারীকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অনেক দেশের অভিযোগ, শিনচিয়াংয়ে উইঘুরদের ধর্মীয় অধিকারও দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে অনেক মুসলমান মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে পারেন না। দাড়িও রাখতে দেওয়া হয় না তাদের।

এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শিনচিয়াংয়ের বাসিন্দারা। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এ পর্যন্ত চীনের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ‘উইঘুর হিউম্যান রাইটস ২০০০’ নামে যুক্তরাষ্ট্রে একটি আইনও পাস হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ভাবছে, ইসলাম ধর্মই তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। এ কারণে তারা তিন লাখ কোরআন শরীফ জব্দ করেছিল। যদিও এসব কোরআন শরীফ দেওয়া হয়েছিল সৌদি আরবের পক্ষ থেকে।

শিনচিয়াংয়ে নতুন কোনো মসজিদ নির্মাণ কিংবা পুরনো মসজিদ সংস্কারের অনুমতিও চীন সরকার দিচ্ছে না। শুধু এমন মসজিদই সংস্কার করা যাবে, যেগুলো দেখতে বৌদ্ধদের উপাসনালয়ের মতো। উইঘুরে শুক্রবারে জুমার নামাজও পড়তে দেওয়া হয় না। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য মসজিদ। ১৯৯৬ সাল থেকে একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব মাদরাসা। সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তুর্কি ও আরবি শিক্ষা।

পুরো বিশ্বই এখন জানে যে জাতিগত নিধনযজ্ঞের অংশ হিসেবে শিনচিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন চলছে। চীনের কাছ থেকে বিপুল আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে মুসলিম দেশগুলো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশ দীর্ঘ সময় ধরে এর বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে। বেইজিংকে যেন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নির্বাসিত উইঘুর মুসলমানরা।

সূত্র : ওয়েবসাইট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা