kalerkantho

রবিবার। ১ ভাদ্র ১৪২৭। ১৬ আগস্ট ২০২০। ২৫ জিলহজ ১৪৪১

ভাইরাস, তবে মানুষের জন্য ‘উপকারী'!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ জুলাই, ২০২০ ১৫:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাইরাস, তবে মানুষের জন্য ‘উপকারী'!

নেদারল্যান্ডসের ভাখেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া শায়েস্তা করতে আরো ছোট জীবাণু কাজে লাগানোর লক্ষ্যে গবেষণা চলছে৷ মিকেরোস কম্পানি ব্যাকটেরিয়ার ফেজ তৈরি করে৷ ফেজ আসলে এমন ভাইরাস, যেগুলো নির্দিষ্ট গোত্রের ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে বাসা বেঁধে বংশবৃদ্ধি ঘটায়৷ এক চিজ প্রস্তুতকারক এমন ফেজ কাজে লাগিয়ে চিজ আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন৷

তরল ব্যাকটেরিয়া কালচারে ফেজ সৃষ্টি করা হয়৷ সেখানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে৷ হুবহু সেই ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেই ফেজ সৃষ্টি করা হয়, পরে যেগুলোর মোকাবিলা করতে হবে৷ ফেজ ব্যাকটেরিয়ার জাতশত্রু৷ মিকেরোস লিস্টেরিয়া ও সালমোনেলা মোকাবিলা করতে ফেজ সরবরাহ করে৷ এভাবে হামলাকারীরা তাদের শিকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়৷

ফেজ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তার মধ্যে নিজের ডিএনএ ঢুকিয়ে দেয়৷ ফলে ব্যাকটেরিয়াকে বাধ্য হয়ে ফেজের অসংখ্য নকল সৃষ্টি করতে হয়৷ সেই ফেজগুলোর চাপে ব্যাকটেরিয়া ফেটে যায়৷ তখন ফেজ বেরিয়ে এসে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার ওপর হামলা চালায়৷

এক খাদ্য প্রস্তুতকারকের সমস্যা সমাধানে ফেজ কাজে লাগানো যায় কিনা, মিকেরোস কম্পানির কর্মীরা তা পরীক্ষা করছেন৷ খাদ্যপণ্যের দুটি সংস্করণ ব্যাকটেরিয়া দিয়ে দূষিত করা হয়েছে৷ যেমন বিশেষ এক প্রজাতির আপেলের মধ্যে লিস্টেরিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷

একটি খাদ্যপণ্যের ওপর পানি স্প্রে করে দেখা হলো৷ অন্যটির ওপর ব্যাকটেরিয়ার ফেজ ঢেলে দেওয়া হলো৷ এবার ফেজের ক্ষমতা খতিয়ে দেখার পালা৷ 

বিশেষজ্ঞরা সেই খাদ্যপণ্যের নমুনা ব্যাকটেরিয়ার জন্য অত্যন্ত উর্বর এক পাত্রে রাখলেন৷ তারপর সেটি ২৪ ঘণ্টার জন্য ইনকিউবেটরে রাখা হলো৷ বিজ্ঞানীদের দলের প্রধান হাখেনস তার ফেজগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে আশাবাদী৷ 

তিনি বলেন, এত সুনির্দিষ্ট প্রভাব ফেলে বলে ফেজ খুবই কার্যকর৷ অর্থাৎ এগুলো শুধু নির্দিষ্ট এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে৷ চিজ ও দইয়ের মতো খাদ্যপণ্যের মধ্যে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ওপর হামলা চালায় না৷ সে কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে ফেজ কাজে লাগানো যায়৷

২৪ ঘণ্টা পর ইনকিউবেটর থেকে প্লেটগুলো বের করে নেওয়া হলো৷ তার মধ্যে অনেকগুলো অনিয়ন্ত্রিত ব্যাকটেরিয়ার কলোনি রয়েছে৷ কয়েকটি মাত্র ফেজের প্লেটের ওপর রাখা হয়েছে৷

স্টেফেন হাখেনস বলেন, অনিয়ন্ত্রিত শ্রেণির তুলনায় সেগুলোর সংখ্যা ১০ গুণ কম৷ ১০ গুণ বেশি ফেজের প্রয়োজন হলে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে ফেলা যায়৷ 

এভাবে জার্মানিতে অদূর ভবিষ্যতে ফেজের প্রয়োগ বাড়তে পারে৷ যেমন সসেজ উৎপাদনের সময় ব্যাকটেরিয়া-নাশক এই উপাদান প্রয়োগ করা যেতে পারে৷ জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে ফেজ শুধু খাদ্যপণ্যের উপরিভাগে থাকে৷ স্মোকড মাছের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ করলে ভালো হয়৷

হোয়েনহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ভল্ফগাং বায়ার এ বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন৷  বায়ার বলেন, এটা ঠিক, যে ব্যাকটেরিওফেজ ভিরুলেন্স জিন বা প্রতিরোধী জিন বয়ে আনতে পারে৷ সবাই জানে, যে এমনটা ঘটে থাকে৷ খাদ্যপণ্য শিল্পে প্রয়োগের সময়েও সেটা হতে পারে৷ তবে খাদ্য শিল্পে মোটেই এমন ধরনের ফেজ প্রয়োগ করার শঙ্কা কম, যেগুলি নিজস্ব জিনোম ব্যাকটেরিয়ার জিনোমের অংশ করে তুলতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে একমাত্র সেই ধরনের ফেজ কাজে লাগানো হবে, যেগুলি শুধু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে হস্তান্তরের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম৷

মোটকথা ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যে ভাইরাস আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে৷ তবে বিশেষ করে বর্তমান অবস্থায় এমনটা মেনে নেওয়া বেশ কঠিন হবে৷

সূত্র : ডয়চেভেলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা