kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

গলায় চেন পেঁচিয়ে করতেন ধর্ষণ-খুন, মৃত্যুর সাজা শুনেই কেঁপে উঠলেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ জুলাই, ২০২০ ০৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গলায় চেন পেঁচিয়ে করতেন ধর্ষণ-খুন, মৃত্যুর সাজা শুনেই কেঁপে উঠলেন

নাম তাঁর কামরুজ্জামান। কিন্তু অপকর্মের জন্য সেই নামের সঙ্গে জুড়ে গেছে চেনম্যান। আদালতে শুনানির সময় তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি চিন্তিত নন। 

তবে ভেতরে যে দুশ্চিন্তা তোলপাড় করছে তাঁকে, সেটা বুঝতে পারেনি কেউ। অথচ রায় ঘোষণা হতেই নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। 

মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনেই থরথর করে কেঁপে উঠল তাঁর সারা শরীর। সাদা জামা পরা মাঝারি গড়নের কামরুজ্জামান। একের পর এক মানুষকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা চলেছে বিভিন্ন আদালতে। তারই মধ্যে ভারতের কালনার সিঙ্গের কোনে নাবালিকাকে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করল কালনা আদালত।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ বিশেষ পুলিশি পাহারায় আদালতে নিয়ে আসা হয় কামরুজ্জামানকে। তখন তাঁর হাঁটাচলা ছিল বেশ স্বাভাবিক। একেবারেই কাউকে সেভাবে বিবেচনায় নেন না ধরনের হাবভাব। 

যেন কিছুই হয়নি- এমনই তাঁর দেহভঙ্গিমা।  দুপুর ১টার কিছু আগে তাঁকে আদালত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারক নিয়ম অনুসারে সাজা ঘোষণার আগে বাদী-বিবাদীর বক্তব্য শোনেন। 

দোষী সাব্যস্ত কামরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমি ম্পূর্ণ নির্দোষ। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এর পরই সিঙ্গের কোনে নাবালিকার বাড়িতে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ, হত্যা, ধর্ষণ ও নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক।

সে কথা শুনেই কেঁপে ওঠেন চেনম্যান 'সিরিয়াল কিলার' কামরুজ্জামান। এরপর স্থির হয়ে যান। আদালত কক্ষ থেকে তাঁকে কড়া পাহারায় গাড়িতে তুলছিলেন পুলিশ কর্মীরা। সে সময় আবারও কামরুজ্জামান জানান, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবী অরিন্দম বাজপেয়ি জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা হাইকোর্টে আপিল করবেন। 

তাঁর স্বামী ওই সিঙ্গের কোনের ঘটনায় যুক্ত নন বলে দাবি করেন কামরুজ্জামানের স্ত্রী জাহানারা সিং। তবে এই রায়ের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সিঙ্গের কোনে খুন হওয়া নাবালিকার আত্মীয়রা। কী সাজা হয় শুনতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। নাবালিকার মা বলেন, মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছিলাম। এই রায়ে আমরা খুশি।

কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরো ১৩টি মামলা চলছে। এর বেশির ভাগই একই কায়দায় নারীদের খুনের পর তাদের ওপর বিকৃত যৌন লালসা মেটানোর অভিযোগ রয়েছে। ১০টি মামলা চলছে কালনা আদালতে। দুটি মামলা হুগলি জেলা আদালতে বিচারাধীন। একটি মামলা রয়েছে বর্ধমান আদালতে। 

২০১৩ সাল থেকে পরপর হত্যা মামলা রয়েছে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। শেষ ঘটনাটি ঘটে কালনার সিঙ্গের কোনে। এক বছর ধরে শুনানির পর সেই ঘটনায় ফাঁসির সাজা ঘোষণা করলেন আদালত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা