kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

পাবজি নিষিদ্ধ হচ্ছে? শঙ্কায় চীনের ধনীতম মা হুয়াতেং

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ জুলাই, ২০২০ ০৯:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাবজি নিষিদ্ধ হচ্ছে? শঙ্কায় চীনের ধনীতম মা হুয়াতেং

কয়েকদিন আগে চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছে মা হুয়াতেং এর নাম। চীনের ইন্টারনেট সংস্থা টেনসেন্ট হোল্ডিংয়ের কর্ণধার তিনি।

জানা গেছে, ব্যাপক জনপ্রিয় গেম পাবজি'র মূল পাবলিশারও এই টেনসেন্ট সংস্থা। আলিবাবার কর্ণধার জ্যাক মা'কে সরিয়ে চীনের ধনীতম ব্যক্তি হুয়াতেং। সেই তিনিই এখন ব্যাপক দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন ভারত সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে।

গত সোমবার টিকটক, ইউসি ব্রাউজার, শেয়ার-ইট, উই-চ্যাট, ক্যামস্ক্যানার-সহ চীনের ৫৯টি মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ভারতের সুরক্ষা, সংহতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই অ্যাপ-নির্মাতাদের তালিকায় রয়েছে টেনসেন্ট, আলিবাবা, শাওমির মতো একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠান।

তবে, পাবজি হলো দক্ষিণ কোরিয়ার কম্পানি ব্লু হোয়েলের মালিকানাধীন। এই গেমটি ২০০০ সালের জাপানি ছবি ব্যাটেল রয়্যালের অনুপ্রেরণায় তৈরি।

ব্লু হোয়েল সংস্থার সঙ্গে অবশ্য মা হুয়াতেংয়ের টেনসেন্ট সংস্থার সম্পর্ক রয়েছে। টেনসেন্ট-এর মাধ্যমে পাবজি পাবলিশ হয়ে থাকে। চীন সরকারের অনুমোদনের মাধ্যমেই দুই সংস্থার মধ্যে চুক্তি হয়।

যদিও পাবজির মার্কেটিং ও ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাকাও গেমস। সে কারণে সোমবার ৫৯টি আ্যাপের যে তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, সেই তালিকায় নেই পাবজির নাম।

বিভ্রান্তি ছড়ালেও পাবজি অ্যাপটি বন্ধ হওয়ার কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত দেয়নি ভারত সরকার। পাবজি অ্যাপের মালিকানা যেহেতু চীন নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থার। সে কারণে চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ হলেও প্রভাব আপাতত পড়ছে না পাবজির ওপর।

যদিও চীনের অ্যাপ সংস্থাগুলোর রাতের ঘুম উড়ে গেছে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে। তাদের অনেকেই ভারতের বিপুল বাজার হাতছাড়া হওয়ায় ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানা গেছে। সে কারণে চিন্তা গ্রাস করছে মা হুয়েতাংকেও।

এমনকি ভারতের এই পদক্ষেপে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত চীনা ব্যবসায়ীরা, তা নিয়ে বলতে গিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, চীন এ ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন ঝাও। তবে এর প্রেক্ষিতে এদিন ভারতের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করা চীনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের সার্বিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটা অঙ্গমাত্র।

ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিডি বক্সি বলেছেন, এটা চীনের সাইবার হানা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা