kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

লকডাউনে চাকরিহারা, দিনমজুরিতে ভারতের গ্রাজুয়েট যুবকেরা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ জুন, ২০২০ ১৬:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লকডাউনে চাকরিহারা, দিনমজুরিতে ভারতের গ্রাজুয়েট যুবকেরা!

করোনা লকডাউনের জেরে বেকার হয়ে পড়েছেন ভারতের লাখ লাখ মানুষ। যারা একসময় বেশ ভালো বেতনের চাকরি করতেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাও কর্মহীন। ফলে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে, পেট চালানোর তাগিদে গ্রাজুয়েট ছেলেরাও উপার্জনের জন্য দিনমজুরিসহ যে কোনো ধরণের কাজ করতেও দ্বিধা করছেন না।

যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে থাকেন রোশন কুমার। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ওই যুবক এখন চাকরি হারিয়ে মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি বা মনরেগা প্রকল্পের আওতায় কাজ খুঁজছেন। চলতি লকডাউনের কারণে ভিনরাজ্যে কাজ করা কমপক্ষে ৩০ লাখ পরিবার কর্মহীন হয়ে উত্তর প্রদেশে ফিরে এসেছেন। মূলত সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেই ওই প্রকল্পে কাজের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শুধু পরিযায়ীরাই নন, দিনমজুরের কাজ করার জন্যে এখন আবেদন করছে উচ্চশিক্ষিত বেকাররাও।

রোশন কুমার একা নন, এমন অনেক উচ্চ শিক্ষিত যুবকই ওই একই ধরনের কায়িক শ্রম সাধ্য কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে। রাস্তা খোঁড়া, পুকুর খোঁড়ার কাজ করতেও প্রস্তুত রয়েছে শিক্ষিত যুবক ছেলেরা।

বিবিএ ডিগ্রিধারী যুবক সত্যেন্দ্র কুমার জানান, 'আমার কাছে বিবিএ ডিগ্রি আছে অথচ আমি কোনো ভাল চাকরি পাইনি। অনেক চেষ্টার পর, আমি মাসে ৬-৭ হাজার টাকার একটি চাকরি পেয়েছিলাম। কিন্তু লকডাউনের ফলে আমার সেই চাকরিটিও চলে গেছে। ফলে, আমি আমার গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। শেষ পর্যন্ত গ্রাম প্রধান তাঁকে একটি মনরেগা প্রকল্পে কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।'

সুরজিত কুমার জানিয়েছেন, তার এমএ এবং বিএড ডিগ্রি আছে। কিন্তু লকডাউনের জেরে কেরিয়ার শুরুর আগেই বেকার তিনি। তার আশঙ্কা তাকেও হয়তো ওই দিনমজুরের কাজ করতে হবে।

পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, লকডাউনের আগে যেখানে এক দিনে গড়ে ২০ জন মনরেগা কর্মী কাজের অপেক্ষায় থাকতেন এখন সেখানে দৈনিক ১০০ জনেরও বেশি মানুষ চাইছেন একটি কাজ, সে যেমনই হোক না কেন। মনরেগায় কাজ করার জন্যে যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে এক পঞ্চমাংশই ডিগ্রিধারী উচ্চশিক্ষিত যুবক। ১ এপ্রিল থেকে ভারতে কমপক্ষে ৩৫ লাখ মানুষ মনরেগা শ্রমিক হিসাবে কাজ করার জন্য আবেদন করেছেন, একসঙ্গে এতো আবেদন এই দশকে কখনো জমা পড়েনি।

সূত্র- এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা