kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনাতঙ্ক উপেক্ষা করে সদ্যোজাতকে স্তন্যপান করালেন নার্স!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জুন, ২০২০ ১৫:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাতঙ্ক উপেক্ষা করে সদ্যোজাতকে স্তন্যপান করালেন নার্স!

নার্স উমা অধিকারী

সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর স্তন থেকে দুধ নিঃসারিত না হওয়ায় স্তন্যদান করতে পারছিলেন না এক নারী।দুধের অভাবে চিৎকার করে কাঁদছে সদ্যোজাত। মায়ের অসহায়তা দেখে আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি আরেক মা। শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করিয়ে তাঁর কান্না থামান নার্স উমা অধিকারী।

এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের আর জি কর হাসপাতালে।

রোগীদের সেবাই তাঁর ধর্ম। করোনা আবহে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সে ধর্ম সযত্নে পালনও করে চলেছেন উমা অধিকারী। তবে তিনি যে শুধুই নার্স নন, একজন মা-ও বটে। সেটাই বুঝিয়ে দিলেন।  


গত সপ্তাহের ঘটনা এটা। আর জি করের লেবার ওয়ার্ড নাইট ডিউটিতে ছিলেন উমা। এক-একদিন এক-এক ওয়ার্ডে ডিউটি করতে হয়। বাড়িতে সাড়ে আট মাসের ছেলেকে রেখে এসে পিপিই-মাস্ক পরে রোগীদের দেখাশুনা করছিলেন অন্যান্যদিনের মতোই। সেখানেই ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর বড্ড অসহায় বোধ করতে থাকেন তিনি। কারণ প্রসবের দু-তিন ঘণ্টা পরও স্তন থেকে দুধ নিঃসরণ হচ্ছিল না তাঁর। কিন্তু দুধ না পেয়ে কেঁদেই চলেছে সদ্যোজাত। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে মাদার-বেবি সেন্টারের শরণাপন্ন হন মা। 

কিন্তু করোনা আর লকডাউনের আবহে সেসব এখন কোথায়? অনেক সময় ওয়ার্ডের অন্যান্য মায়েরা এগিয়ে আসেন স্তন্যপান করাতে। কিন্তু করোনার ভয় সকলকে এমনভাবে গ্রাস করেছে, যে সদ্য মা হওয়া ওয়ার্ডের অন্যান্য নীররা এগিয়ে আসতে সাহস পাননি।

সদ্যোজাতর কষ্ট আর সহ্য করতে না পেরে উমা নিজেই তাকে কোলে তুলে নেন। দু’বার স্তন্যপান করিয়ে শিশুর কান্না থামান তিনি। 

উমা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নিঃসরণ স্বাভাবিক করার জন্য সেই মা’কে মোটিভেট করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বাচ্চা এত কাঁদছিল যে তার কান্না থামাতে ওকে স্তন্যপান করালাম। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পর শিশুটির মা স্তন্যদানে সক্ষম হয়ে গিয়েছিলেন।

উমা জানান, ঠিক সেই সময়ই বাড়ি থেকে ফোন এসেছিল। কিন্তু রোগী সন্তানকে স্তন্যপানে ব্যস্ত থাকায় ফোনটাই ধরতে পারেননি। 

তিনি বলেন, রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। সাড়ে আট মাসের ছেলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভিডিও কলে একবার আমার মুখটা দেখে। তাই স্বামী ভিডিও কল করছিল। কিন্তু ফোনটা কেটে দিই। স্বামীকে জানাই স্তন্যপান করাতে ব্যস্ত। কথাটা শুনে স্বামী একটু ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন। আমাকেও তো বাড়ি গিয়ে নিজের সন্তানকে স্তন্যপান করাতে হয়।

উমার সাহসকে অভিবাদন জানান তাঁর সহকর্মী, বন্ধু- বান্ধবরা। 

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা