kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

লাদাখ ঘিরে চীন-ভারত সংঘর্ষের আশঙ্কা, সীমান্ত থমথমে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ মে, ২০২০ ১৪:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাদাখ ঘিরে চীন-ভারত সংঘর্ষের আশঙ্কা, সীমান্ত থমথমে

লাদাখ সীমান্ত ঘিরে চীন-ভারত দীর্ঘ একমাসের উত্তেজনা বড় ধরণের যুদ্ধে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সীমান্তে যুদ্ধ বিমান ও সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত ৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে চীন। একইভাবে সৈন্য বাড়াচ্ছে ভারতও। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পূর্ব লাদাখের কাছে একাধিক জায়গায় মুখোমুখি ভারত-চীন। 

গণমাধ্যমগুলো আরো জানাচ্ছে, চীনা সেনাবাহিনীকে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নির্দেশ দিয়েছেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি বাড়িয়ে তুলতে। ফলে লাদাখ সীমান্ত ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দুই দেশকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নয়াদিল্লীভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুকলা বলেন, ‘দুই দেশ যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে তাতে নতুন উত্তেজনা মানে সর্বাত্বক যুদ্ধের আশঙ্কা। হাজার হাজার চীনা সৈন্য এখন ভারতের মাটিতে। তারা সেখানে যুদ্ধ করার জন্যই অবস্থান করছে। চীন হয়তো ভারতের ওপর নির্মাণের অভিযোগ তুলতে পারে। কিন্তু আমরা জানিনা চীনের আসলে লক্ষ্য কী?’ তবে চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বেইজিং অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়েই ব্যস্ত, যুদ্ধ তারা চায় না।

এদিকে ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে শ্যাডোব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের ওপেন সোর্স ইনটেলিজেন্স থেকে কয়েকটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয়, লাদাখের প্যাংগং লেক থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে বিশ্বের উচ্চতম বিমান ঘাঁটিগুলোর মধ্যে অন্যতম গারি গুনশা ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রেখেছে  চীনের ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’।

লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে মোতায়েন বিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম হল জে-১১ ও জে-১৬ ফাইটার। ৬ এপ্রিলের স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বেসামরিক বিমান ঘাঁটি রূপেও ব্যবহার হওয়া গারি গুনশায় সেই অর্থে সমরসজ্জা নেই। কিন্তু তারপর ২১ মে পাঠানো ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন ইশারা করছে। মাস দেড়েকের মধ্যেই গারি গুনশায় বিপুল নির্মাণের বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে ছবি দেখেই। 

বিমান মোতায়েন নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট ও কারগিল যোদ্ধা সমীর জোশীর বক্তব্য, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গারি গুনশায়র উচ্চতা ৪ হাজার ২৭৪ মিটার। এর ফলে চীনা যুদ্ধবিমানগুলো সীমিত পরিমাণের মিসাইল ও বোমা নিয়ে উড়তে পারবে। এবং খুব বেশি ঘণ্টাখানেক বাতাসে থাকতে পারবে সেগুলো। কিন্তু মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরলে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো ৩ থেক ৪ ঘণ্টা আকাশে থাকবে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সাবধান হতে হবে। 

সূত্র: আল জাজিরা, সংবাদ প্রতিদিন 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা