kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

চীন-ভারত উত্তেজনা, তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক মোদির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০২০ ০৩:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীন-ভারত উত্তেজনা, তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক মোদির

চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে লাদাখে। তাই জরুরি বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার দু'দফা বৈঠক করেন তিনি। লাদাখে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং সেনাবাহিনীর কৌশল ঠিক করতে প্রথমে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে। কূটনৈতিক অবস্থান ঠিক করতে তারপর আলাদা করে বৈঠক করেন বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গেও। 

এর আগে মোদি লাদাখ নিয়ে একদফা বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। তিনবাহিনীর প্রধান এবং চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখেন তারা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজনাথকে সবিস্তার তথ্য দেন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে। লাদাখ সীমান্তের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখেন তারা।

ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে পড়া নিয়ে একাধিকবার চীনের সঙ্গে সঙ্ঘাতে জড়িয়েছে ভারত। চলতি মাসের গোড়ার দিকে তা নিয়ে নতুন করে দু'দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত ৯ মে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নাকুলা সেক্টরে চীনা বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় জওয়ানরা। তাতে বেশ কয়েকজন আহতও হন। দু'পক্ষের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং গত কয়েক দিনে প্যাংগং এবং গালওয়ান উপত্যকায় সেনা মোতায়েন করেছে দু'পক্ষই। গালওয়ান নদীর তীর বরাবর তাঁবু ফেলেছে চীন। শুরুতে সেখানে দু-তিন হাজার সেনা মোতায়েন করলেও, তা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করা হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবারই লাদাখ সীমান্ত এলাকা থেকে বেশ কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ সামনে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, প্যাংগং থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের নারি গানসা বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ চলছে। বিমানঘাঁটির টারম্যাকে সারি দিয়ে চারটি যুদ্ধবিমান দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে একটি ছবিতে। সেগুলো চীনা বাহিনীর জে-১১ এবং জে-১৬ যুদ্ধবিমান হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের, যা কি-না ভারতের সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সমকক্ষ।

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে চীনা সেনার ভারতীয় এলাকায় ঢোকা নিয়ে এর আগেও দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু যে গালওয়ানে চীনা সেনার সমাবেশ ঘটেছে, তা নিয়ে দু'দেশের মধ্যে কোনো কালেই বিরোধ ছিল না। আর তাতেই উদ্বেগ বেড়েছে ভারতের।

সূত্র: আজকাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা