kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

করোনা ভ্যাকসিনের মানব পরীক্ষা শুরু করেছে জার্মানি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ এপ্রিল, ২০২০ ২০:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা ভ্যাকসিনের মানব পরীক্ষা শুরু করেছে জার্মানি

বিশ্বজুড়ে প্রলয় সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন। এখনো সফলতার মুখ দেখেননি। তবে ভ্যাকসিন তৈরির দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। এরই মধ্যে দেশগুলো মানব ট্রায়াল শুরু করেছে। এবার সেই দৌঁড়ে সামিল জার্মানি। দেশটির বায়োটেক সংস্থা বায়োএনটেক কর্তৃক উদ্ভাবিত কভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিন মানব শরীরে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

বায়োএনটেক একটি বিবৃতিতে বলেছে যে, পরবর্তী পদক্ষেপে তারা ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে বিএনটি ১৬২ ডোজ প্রয়োগ করবেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিনটি কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত কয়েকজনের ওপর প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া সংস্থাটি খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ট্রায়াল শুরু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রত্যাশায় রয়েছে।

একটি নিরাপদ, কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এক বছরেরও বেশি সময় লাগে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতেতে গবেষকদের হাতে এতো সময় নেই। এজন্য গবেষকরা বিদ্যমান ওষুধগুলি এবং অ ড্রাগ চিকিৎসাগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য কাজ করছেন। পাশাপাশি এরইমধ্যে আশাব্যঞ্জক ভ্যাকসিনগুলোর পরীক্ষামূলক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করছেন।

জার্মানির তৈরি নতুন এই ভ্যাকসিনটি কার্যকর প্রমাণিত হলে এটি কভিড-১৯ রোগীদের জীবন বাঁচাতে পারবে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমবে, অ্যান্টিবডি পরীক্ষা,যোগাযোগ-ট্রেসিং প্রযুক্তি, রোগের নজরদারি এবং অন্যান্য প্রাথমিক সতর্কতা সরঞ্জামগুলো আর ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। বিশ্বব্যাপী মহামারিটির প্রত্যাশিত পরবর্তী 'তরঙ্গ' আসার আগেই এই ভ্যাকসিনটি বাজারে চলে আসলে বিশ্ববাসীর জন্য সেটা হবে আশির্বাদ।

বিশ্বজুড়ে বায়োটেক এবং গবেষণা দলগুলো দ্বারা এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০টি সম্ভাব্য কভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিকাশাধীন এবং এর মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

মানবদেহে প্রথমবারের মতো করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বিজ্ঞানীরা। ওই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে এখনও গবেষণা চলমান রয়েছে। এছাড়া চীন ও যুক্তরাজ্যের গবেষকরাও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, উৎপত্তির পর থেকে গোটা বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে মহামারি করোনাভাইরাস। কিছুতেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না এর সংক্রমণে। চীনের উহান শহর থেকে এই ভাইরাস আড়াই মাসেই বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ২৮৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৩ জন।

সূত্র- আল- জাজিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা