kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

করোনা মোকাবেলায় ইসরায়েলের দেখানো পথে হাঁটছে এশীয় দেশগুলো!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মোকাবেলায় ইসরায়েলের দেখানো পথে হাঁটছে এশীয় দেশগুলো!

মারাত্মক ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে পুরো বিশ্ব। লকডাউন চলছে দেশে দেশে। নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এতকিছুর পরেও কিছুতেই এই মারণ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার করে অনেকটাই সংক্রমণের গতি রুখে দিতে পেরেছে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল। এবার তাদের দেখানো পথেই হাঁটছে এশিয়ার দেশগুলো। এরই মধ্যে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রুখতে বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ বৈদ্যুতিক নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করেছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের সাথে বাণিজ্যিক কারণে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এই দেশগুলি এখন যতটা সম্ভব অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে ভাইরাসটি ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর সিঙ্গাপুরে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। চীনের বাইরে এশিয়ার দেশগুলোতে সেটিই ছিল প্রথম সংক্রমণের ঘটনা। ১২ এপ্রিল দেশটিতে করোনা সংক্রমণের দুইমাস অতিবাহিত হলেও মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ৮ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৯৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৬০ জন। এটা দেশটির জন্য বড় সফলতা। প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সিঙ্গাপুর এটার বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

সম্ভাব্য ভাইরাস সংক্রমণ সনাক্তকরণে অত্যন্ত সফল দেশটি। জানুয়ারির গোড়ার দিকে, সিঙ্গাপুরের সরকার নিশ্চিত মামলার নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণের উপর নজর রাখার জন্য একটি 'কনট্রাক্ট ট্রেসিং ওয়েবসাইট' চালু করেছিল।  এছাড়াও, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অংশীদারিতে সরকারী প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দ্বারা বিকশিত একটি স্বেচ্ছাসেবী 'ট্রেস টুগেদার অ্যাপ্লিকেশন' চালু করে দেশটি। এছাড়া কভিড-১৯ নিশ্চিত হওয়া রোগীদের শারীরিক সান্নিধ্যে থাকা ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে ফোনের মধ্যে স্বল্প-দূরত্বের ব্লুটুথ সংকেত বিনিময় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। যাতে সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকতে পারে।

করোনার বিস্তার রোধে সিঙ্গাপুরের নেওয়া এ জাতীয় পদক্ষেপগুলোর রেকর্ড প্রতিটি ব্যবহারকারীর ফোনে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং ২১ দিনের পরে মুছে ফেলা হয়। এ জাতীয় সমস্ত ডেটা সংগ্রহ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে স্বচ্ছতা এবং গোপনীয়তা সুরক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয়। এভাবেই শুধুমাত্র সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমেই করোনার মহামারি রূপ বদলে দিতে পেরেছে সিঙ্গাপুর। ২৫ শে মার্চ, সিঙ্গাপুর বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য 'ট্রেস টুগেদার' অ্যাপটি বিনামূল্যে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

একই পথে হেঁটেছে বাংলাদেশও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইইডিসিআরের তথ্য কাজে লাগিয়ে আশপাশে করোনায় আক্রান্ত বা কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তি থাকলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করবে ‘করোনা আইডেন্টিফায়ার’ নামের এমন একটি অ্যাপ চালু করেছে। টেলিটকের তৈরি অ্যাপটি ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করে আশপাশের কমিউনিটি পর্যায়ে করোনা সংক্রমণের বিস্তারিত তথ্যও জানাবে। করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়সহ সচেতনতাও বৃদ্ধি করবে অ্যাপটি।

বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও অ্যাপটি শিগগিরই গুগল প্লেস্টোর ও অ্যাপস্টোরে পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, অ্যাপটির গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। করোনা সংক্রমণের তথ্য জানানোর পাশাপাশি ও কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে অ্যাপটি। স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে ভবিষ্যতে অ্যাপটিতে আরো নতুন ফিচার যুক্ত করা হবে। 

রেডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় তৈরি অ্যাপটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে http://coronaidentifier.teletalk.com.bd/ ঠিকানায়।

সূত্র- হারেটজ, কালের কণ্ঠ।



সাতদিনের সেরা