kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা মোকাবেলায় চীনের কাছ থেকে যা শিখতে হবে ভারতকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ১২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মোকাবেলায় চীনের কাছ থেকে যা শিখতে হবে ভারতকে

 ভারতজুড়ে চলছে লকডাউন। এদিকে চীনের উহান শহরেও আড়াই মাস পর গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে লকডাউন। উহানে লকডাউন ঘোষণার প্রথম থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। শহরের বাইরে যাওয়া তো দূরের কথা, ঘর থেকে বাইরে যাওয়া যাবে না এবং যে কোনও পরিবার থেকে একজন মাত্র সদস্য তিন দিনে এক বার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আনার জন্য।

গোটা চীনে করোনায় যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছে চীনের উহানে মারা গেছে তার ৮০ শতাংশ। তবে প্রশ্ন হতে পারে উহান থেকে বাকি শহরগুলোতে করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ার কারণ কি।  কারণ শুরু থেকেই উহান শহর ভালোভাবে লকডাউন করা হয়েছিল। এমনকি যে হুবেই প্রদেশের শহর উহান সেই প্রদেশের সাথেও বাকি দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। শুধু উহান বা হুবেইতে কিন্তু নয়, চিনের অন্যান্য প্রান্তেও প্রয়োজন মতো লকডাউন কার্যকরী করা হয়েছিল। খুব দ্রুত করোনা হটস্পট চিহ্নিত করে নিয়ে সেই অঞ্চলগুলোকে দেশের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়। আর যেখনে যেমন প্রয়োজন, সেখানে তেমন ভাবে লকডাউন জারি করা হয়েছিল। 


আড়াই মাস পর  ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে লকডাউন প্রত্যাহার করা হল উহানে। যে শহরের জনসংখ্যা ১১ লক্ষের আশেপাশে, ৭৭ দিনের লকডাউন শেষে সেই শহরের রাস্তাঘাট যে রকম জনপ্লাবনে ভেসে যাওয়া উচিত, তা  ঘটল না। কারণ সচেতন হয়ে গিয়েছেন শহরবাসী। ঘরের বাইরে গেলেও মুখে মাস্ক এবং সর্বাঙ্গ ঢাকা নিরাপদ পোশাক পরে বেরচ্ছেন। প্রত্যেকে পরস্পরের সঙ্গে দৈহিক দূরত্ব বহাল রাখছেন। 

তবে উহানের লকডাউন উঠলেও সোমবার ৩২ জন নতুন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল চীনে। মঙ্গলবার সেই সংখ্যা ৬২তে পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জনই অন্য কোনও দেশ থেকে সংক্রামিত হয়ে চীনে ঢুকেছেন। সুতরাং, নতুন করে সংক্রমণ ঠেকাতে হলে লকডাউন যে এখনই পুরোপুরি শিথিল করা যাবে না, চিনা কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে পারছেন। 
এদিকে টানা ২১ দিন লকডাউন চলছে ভারতজুড়ে। আগামী ১৪ এপ্রিলের পর লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব নয় বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এই লকডাউন সঙ্কটও বাড়াচ্ছে। দেশের অর্থনীতি যে সামগ্রিক ধাক্কার মুখে পড়ছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। পাশপাশি কঠিন সময় পার করছেন খেটে খাওয়া মানুষ। 
তবে শুধু লকডাউনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না বলে বলছেন  বিশেষজ্ঞরা। চীনের কাছ থেকে আরও বেশ কয়েকটা শিক্ষা এই মুহূর্তে ভারতকে নিতে হবে। লকডাউনের পাশাপাশি যত বেশি সম্ভব টেস্টিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে। আর হাসপাতালগুলোর উন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে । তা না হলে  মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো কঠিন হতে পারে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা