kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

পাকিস্তানে ভয়ঙ্কর দিন আসছে, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত বেড়ে দ্বিগুণ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকিস্তানে ভয়ঙ্কর দিন আসছে, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত বেড়ে দ্বিগুণ!

পাকিস্তানে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৫৮৭ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৭২ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে। দু'দিন আগেও পাঞ্জাবে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার। বুধবার ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের রিপোর্ট বলছে, একদিনেই এই সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা দু'হাজার ছাড়িয়েছে। এই মুহূর্তে পাঞ্জাব প্রদেশেই করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। সংক্রমণে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিন্ধু প্রদেশ। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮৬। খাইবার-পাখতুনখোয়াতে দু'দিন আগেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৫০ এর কাছাকাছি, সেটা বেড়ে হয়েছে ৫০০, বেলুচিস্তানে ২০২, গিলগিট-বালটিস্তানে ২১১, ইসলামাবাদে ৮৩ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, সংক্রমণ যেমন বাড়ছে তেমনি সুস্থও হয়ে উঠেছেন ৪২৯ জন। এখনও পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৩৯ হাজার ১৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অনেকেরই রিপোর্ট নেগেটিভ। বাকিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সিন্ধু প্রদেশের সরকারি মুখপাত্র মুরতাজা ওয়াহাব বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি সঙ্কটজনক। মানুষ সচেতন না হলে এবং মেলামেশা বন্ধ না করলে সংক্রমণ মহামারির পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তার কথায়, 'পাকিস্তানে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি। তারপর ২৯ দিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার জনে। এরপর মাত্র সাত দিনেই সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ে দু'হাজার, পাঁচ দিনে তিন হাজার এবং পরবর্তী তিনদিনের মধ্যেই সংখ্যাটা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কী ভয়ঙ্কর দিন আসতে চলেছে, সেটা বুঝতেই পারছে না এখানকার লোকজন।'

লাহোরের জেলেও ছড়িয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ। সেখানকার ৫০ জন আসামির শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ড্রাগ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন পাক নাগরিককে ইতালি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গতমাসে তাদের লাহোরের জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। তাদের থেকেই জেলের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেনি পাক সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, রেস্তরাঁ-সহ জনসমাগম হতে পারে এমন জায়গাগুলি সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও, কৃষি এবং নির্মাণক্ষেত্রে কাজ চলছে। পাঞ্জাবেও কিছু দোকান খোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখছে না বলে দাবি করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

সূত্র- দ্য ইকোনমিক টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা