kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা হয়নি তবুও গ্রামবাসীর দোষারোপ, আত্মহত্যায় মুক্তি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনা হয়নি তবুও গ্রামবাসীর দোষারোপ, আত্মহত্যায় মুক্তি!

করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না, পরীক্ষায়ও নেগেটিভ ফল এসেছে। তবুও গ্রামবাসীরা তার বিরুদ্ধে করানা ছড়ানোর অভিযোগ আনায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন ভারতের হিমাচল প্রদেশের এক মুসলিম দুগ্ধ খামারি।

গ্রামবাসীরা তাকে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দোষারোপ করতে থাকায় রবিবার (০৫ এপ্রিল) তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রাজ্যের উনা জেলার বনগড় গ্রামের দিলশাদ মোহাম্মদ নামের ওই ব্যক্তি সম্প্রতি দিল্লির মারকাজে অনুষ্ঠিত তাবলিগ জামাতে উপস্থিত ছিলেন এমন দুইজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রামবাসীরা তার কাছ থেকে দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর অভিযোগ এনেছিল। এরপর থেকে তিনি নিজেকে ঘরে বন্দি করে ফেলেছিলেন। পরে তার নিজ সম্প্রদায়ের লোকজন আজ সকালে ওই ব্যক্তিকে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২ এপ্রিল, দিলশাদকে স্থানীয় পুলিশ কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য উনার আঞ্চলিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। তার রিপোর্টটি নেতিবাচক আসার পরে পুলিশ তাকে শনিবার একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তার নিজ বাড়িতে রেখে যায়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, দিলশাদ গ্রামবাসীর দ্বারা অপমানিত হয়েছিলেন যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সকালে তিনি সবার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন তার পরেই তিনি তার ঘরের দরজায় তালা দিয়ে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় বাইরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা দরজা খুলে তাকে ছাদ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

পরিবারের এক সদস্য বললেন, 'আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি, লোকেরা আমাদের কাছ থেকে দুধ কিনছিল না। এটি আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল। দিলশাদের করোনা পরীক্ষায় নেতিবাচক ফলাফল এসেছিল এবং তিনি কখনই দিল্লির মারকাজের জমায়েতে যাননি। তবুও হয়রানি অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি আর তা নিতে পারেননি।

সূত্র- নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা