kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

গান গেয়ে কলকাতা পুলিশের সচেতনতা

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ২২:৪৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গান গেয়ে কলকাতা পুলিশের সচেতনতা

এ যেন এক অন্য রকম যুদ্ধ। হাতে ঢাল-তলোয়ার নেই, বন্দুক কামান নেই। গোলাগুলি চলছে না, বাজছে গান।

করোনাভাইরাসের কারণে ভারতজুড়ে লকডাউনের আবহে কলকাতা পুলিশ মানুষকে সচেতন করতে এবার নেমে পড়েছে গানকে সম্বল করে।

বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছিল এই অভিযান এবং প্রথম দিন মধ্য কলকাতার এন্টালী থানার অফিসাররা মাইক নিয়ে হাততালি দিতে দিতে গেয়েছিলেন, "we shall overcome, বা “আমরা করবো জয়”। 

জনবহুল এরিয়াতে হিন্দি বাংলা এবং ইংলিশ ভাষায় এই গান গাইতে থাকেন অফিসাররা আর সাথে চলতে থাকে হাততালি। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায় আশেপাশের মানুষ ব্যালকনি থেকে হাততালি দিচ্ছেন বা পুলিশের গান ভিডিও করছেন।

শুক্রবার গড়িয়াহাট থানার অফিসার রা নিয়ে এলেন আর একটি গান— অঞ্জন দত্তের “বেলা বোস” এর সুরে সেই গানের মাধ্যমে জানানো হলো করোনা মহামারী কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ইতালি চীন এবং আমেরিকাতে।

এক সূত্র জানিয়েছেন, রাত জেগে এই গানের লিরিক লেখা হয় এবং তাতে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং এর বার্তা, ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলার মতো অনেক বার্তা দেওয়া হয়।
 
পরপর দুইদিন গানের এই অভিযানের পরে আজ চলে আসে আর একটি নতুন গান —  সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী গুপী গাইন বাঘা বাইন এর “ওরে হাল্লা রাজার সেনা" র সুরে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ অফিসাররা গাইতে শুরু করেন "ওরে শহরবাসী, তোরা বাইরে ঘুরে করবি কি তা বল?” 

এই তিনটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল এবং এই গান মানুষের মুখে মুখে। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা বলেন গানের মাধ্যমে সোশ্যাল ডিসটেন্স এর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্ল্যান আসলে মমতারই।

"করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক। এই সময় মানুষকে সোশ্যাল ডিসটেনসিনসিংনিয়ে করাকরি করলে হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই গানের মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে" বলেন ওই তৃণমূল নেতা। 

আর যেহেতু মানুষ সারাদিন বাসায় কাটাচ্ছেন, তাই এই গানের মাধ্যমে তাদের একঘেয়েমি কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। 

"বিভিন্ন থানা তাদের নিজেদের উদ্যোগে এই কাজ করছে... এবং আমরা চাই আরো থানা এগিয়ে আসুক এবং সোশ্যাল ডিসটেন্স  এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিক" বলেন এক পদস্থ পুলিশ অফিসার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা