kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

নিজামুদ্দিনের তাবলিগ-জামাত ঘিরে চিন্তা সারা ভারতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০৯:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজামুদ্দিনের তাবলিগ-জামাত ঘিরে চিন্তা সারা ভারতে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে দিল্লির নিজামুদ্দিনে সাদপন্থী হিসেবে পরিচিত একটি মসজিদকেন্দ্রীক ‘তাবলিগ জামাত’ চিন্তা বাড়াল পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতের। গত মার্চ মাসের শুরু থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আলামি মার্কাজ বাঙ্গালেওয়ালি মসজিদে ধর্মীয় জমায়েতের ডাক দিয়েছিল তাবলিগ জামাত। 

সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ভারত ও অন্যান্য দেশের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের আবহে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কিরগিজস্তান থেকে বিদেশিরা এসেছিলেন। ১৫ মার্চ অনুষ্ঠান শেষের পরেও নিজামুদ্দিন এলাকায় থেকে যান অনেকে। জনতা কারফিউ জারির আগের দিন অর্থাৎ ২১ মার্চ ওই মসজিদে ছিলেন ১৭৪৬ জন। তাদের মধ্যে ২১৬ জন বিদেশি। আর সারা ভারতে সেই সময়ে বিদেশ থেকে আসা মুসলিম ধর্মপ্রচারক ছিলেন ৮২৪ জন।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই জামাতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের কেউ কেউ মারা গেছেন। ফলে প্রচারের আলোয় উঠে আসে নিজামুদ্দিনের ওই মসজিদ। তার পর থেকে শুরু হয় পরীক্ষা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দিল্লিতে এখন পর্যন্ত জামাতে যোগ দেওয়া ১২০৩ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৩ জন করোনায় আক্রান্ত। যদিও ওই সংগঠনের বক্তব্য, জনতা কারফিউ জারি ও লকডাউনের ফলে অনেকে দিল্লিতে থেকে যেতে বাধ্য হন।

তাবলিগ-জামাতের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলোকে প্রথম সতর্ক করা হয় ২১ মার্চ। তার পর ২৮ মার্চ সব রাজ্যকে চিঠি দিয়ে তারা জামাতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেয়। ওই ব্যক্তিরা কাদের সংস্পর্শে এসেছেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নিতে বলা হয়। ২৯ মার্চ রাজ্যগুলোকে চিঠি দেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান। কিন্তু একাধিক রাজ্যের দায়সারা মনোভাবে হতাশ কেন্দ্র। 

দেখা গেছে, অধিকাংশ রাজ্য দিল্লি সরকারের মতোই হাত গুটিয়ে বসে ছিল। এখন নিজামুদ্দিন এলাকায় সংক্রমিতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও তেলাঙ্গানায় মৃত্যুর পরে হইচই হওয়ায় তারা নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে ২১৩৭ জনকে পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক টুইট বার্তায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা এই জমায়েতে (দিল্লির তবালিগ জামাত) গিয়েছিলেন, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হবে এবং ১৪ দিনের জন্য আবশ্যিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানান, প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। পরে রাতে নবান্ন সূত্রে দাবি করা হয়, দিল্লি থেকে রাজ্যে ফেরা সকলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা হচ্ছে, তারা কত জনের সংস্পর্শে এসেছেন। সেই তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিদেশিদের মধ্যে রাজাবাজারের একটি মসজিদে থাইল্যান্ডের ১৩ জন তাবলিগ জামাতি এবং ৬ জন স্থানীয় ধর্মপ্রচারক গত ৮-১০ দিন ধরে রয়েছেন। মেটিয়াবুরুজের মসজিদে মালয়েশিয়ার ৯ জন এবং ইন্দোনেশিয়ার ৪ জন জামাতি আটকে রয়েছেন। কলুটোলার এক মসজিদে মায়ানমারের ১৪ জন জামাতিকে চিহ্নিত করা গেছে।

নিজামুদ্দিনের ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই ঘটনায় করোনার বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইটা অনেক কঠিন হয়ে গেল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা