kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

নিজামুদ্দিনে তাবলিগের সমাবেশে বিদেশিদের উপস্থিতি, প্রশ্নের মুখে বিজেপি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০৮:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজামুদ্দিনে তাবলিগের সমাবেশে বিদেশিদের উপস্থিতি, প্রশ্নের মুখে বিজেপি

চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের সমাবেশে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া থেকে ধর্মপ্রচারকরা এসে জমায়েত হয়েছিলেন। ওই সব দেশে ততদিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তার পরেও কেন সেসব দেশ থেকে তাদের ভারতে প্রবেশ আটকানো হলো না, সেই প্রশ্ন উঠছে এখন। 

তাবলিগ জামাতের ভবন বা মারকাজ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসায় সামগ্রিকভাবে প্রশ্নের মুখে বিজেপি সরকার। আরো আগেই সরকারি তৎপরতা শুরু হয়নি কেন, সে প্রশ্নই তুলছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতাদের যুক্তি, তারা এ নিয়ে রাজনীতি করতে চান না। কিন্তু রাহুল গান্ধী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই করোনা নিয়ে সরকারকে সাবধান করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র কএনা তৎপরতা দেখায়নি। 

১৩-১৫ মার্চ সমাবেশ ছিল তাবলিগের। তার আগে ৯-১০ মার্চ ছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ২২ মার্চ বিদেশি বিমান ভারতে আসা বন্ধ করে বিজেপি সরকার। ১১ মার্চ বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদ দিলে সব ভিসা স্থগিত রাখা হয়েছিল। 

চীন, ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন বা জার্মানি থেকে আসা ভারতীয় বা বিদেশিদের ১১ দিন গৃহবন্দি থাকার নির্দেশও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ যে প্রথম দিকে রাজ্য স্তরে ঠিক মতো কার্যকর হয়নি, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও মানছেন। সে কারণেই বিদেশি ধর্মপ্রচারকরা আসতে পেরেছেন।

যদিও সরকারি সূত্রের বক্তব্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প ভারত থেকে ফেরার পরই করোনা নিয়ে সক্রিয় হয় মোদি সরকার। মার্চের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রতি সপ্তাহে করোনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ শুরু করে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতে আসা বিদেশি এবং ভারতীয় নাগরিকদের কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য কড়া পদক্ষেপ সে সময়ে নেওয়া হয়নি। বরং মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল কিভাবে বিভিন্ন দেশে আটকে যাওয়া ভারতীয় নাগরিকদের করোনা পরীক্ষা করে, যারা সেই মুহূর্তে আক্রান্ত নন তাদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। 

সেখানেই কিছু ফাঁক রয়ে গিয়েছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যারা করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে ভারতে নামছেন, তারা হয়তো সেই সময় পরীক্ষায় নেগেটিভ ছিলেন। কিন্তু সংক্রমিত হওয়ার বেশ কিছুদিন পর্যন্ত যে রোগ ধরা না-ও পড়তে পারে, কারো শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা না গেলেও তিনি যে অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন, সেই হিসেবটা করা হয়নি। 

ফলে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে আসলেও তাদের জন্য ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো হওয়া এবং বাধ্যতামূলক করা উচিত ছিল। যা করা হয়নি। বিমানবন্দরে নামমাত্র জ্বর মেপে কোয়ারেন্টিনের নিদান দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ভবিষ্যতে আর কোনো তাবলিগ প্রচারককে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা এও জানিয়েছেন, যারা এরই মধ্যে পর্যটক ভিসায় এসে ভারতে ধর্মপ্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নিয়ম ভেঙেছেন, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা