• ই-পেপার

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩ হাজার ছাড়ালো

তৃণমূল ভাঙার স্রোতে এবার কোয়েল মল্লিক?

অনলাইন ডেস্ক
তৃণমূল ভাঙার স্রোতে এবার কোয়েল মল্লিক?
সংগৃহীত ছবি

ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দিতে পারেন প্রখ্যাত টলিউড অভিনেত্রী ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কোয়েল মল্লিক। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ পদে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা আগ্রহ না থাকায়, সে সময় তার এই পদপ্রাপ্যতা রাজনৈতিক মহলসহ ঘনিষ্ঠদের বেশ বিস্মিত করেছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তার এই সম্ভাব্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নতুন করে গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঞ্জাবি পরিবারে বৈবাহিকসূত্রে আবদ্ধ কোয়েল মল্লিককে সংসদীয় প্রতিনিধি করে কলকাতার ভবানীপুর এলাকার পাঞ্জাবি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই ভোটব্যাংক সমীকরণটি রাজনৈতিকভাবে খুব একটা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। দলের অন্দরেও এ নিয়ে ভিন্ন সুর তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের অভ্যন্তরে গুঞ্জন রয়েছে, কোয়েল মল্লিকের স্বামীর রিয়্যাল এস্টেট ও প্রযোজনা ব্যবসার স্বার্থেই তৎকালীন সরকার প্রধানের এই প্রস্তাব গ্রহণে অভিনেত্রীর ওপর এক ধরনের প্রচ্ছন্ন তাগিদ ছিল। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অনৈতিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন কোয়েল-ঘনিষ্ঠ এক টলিউড অভিনেতা। তার দাবি, ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বিসর্জন দিয়ে কোনো পদ আঁকড়ে থাকার মানুষ কোয়েল মল্লিক নন।

উল্লেখ্য, কোয়েলের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে তার পিতা ও বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক পূর্বে জানিয়েছিলেন, কোয়েল একজন বুদ্ধিমান ও বুঝদার নারী। বাবা হিসেবে তিনি সর্বদা তার কন্যাকে সৎ পথে থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসক দল তৃণমূলে এক ধরনের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও পালাবদল পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, তৃণমূলের কোনো 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠী বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শিবিরে কোয়েল মল্লিক যোগদান করবেন না। বরং আত্মসম্মান বজায় রেখে সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি দূরত্ব বজায় রাখতেই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে কোয়েল মল্লিকের সঙ্গে একাধিক উপায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র : আনন্দবাজার

আলিবাবা ও বিওয়াইডিসহ ১৮৮ চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
আলিবাবা ও বিওয়াইডিসহ ১৮৮ চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ছবি : রয়টার্স

চীনা প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বিশ্বখ্যাত অনলাইন কেনাকাটার মাধ্যম ‘আলিবাবা’, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা ‘বিওয়াইডি’ ও সার্চ ইঞ্জিন ‘বাইডু’-সহ বেশ কয়েকটি বড় চীনা কম্পানিকে তাদের সামরিক তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে এই কম্পানিগুলো এখন থেকে মার্কিন সরকারের কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি পাবে না।

সোমবার (৮ জুন) পেন্টাগন এই তালিকাটি হালনাগাদ করেছে। ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশে এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য হলো এমন সব চীনা সংস্থাকে চিহ্নিত করা, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। গত বছর এই তালিকায় প্রায় ১৩০টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও, এই বছর তা বাড়িয়ে ১৮৮টিতে করা হয়েছে।

এই তালিকায় ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজেআই’ আগে থেকেই ছিল। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘ইউনিট্রি’ নামের একটি রোবটিক্স কোম্পানি, যাদের নাচতে পারা রোবট আমেরিকার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আমেরিকা'স গট ট্যালেন্ট’-এ বেশ সাড়া ফেলেছিল।

পেন্টাগনের দাবি, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইডুর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের ‘শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়’-এর সাথে যুক্ত থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। এসব কম্পানি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের দাবি করলেও, চীনা সামরিক বাহিনী তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষতা হাতিয়ে নিতে চাইছে।

নতুন এই তালিকার পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা দাবি তুলেছেন, তালিকায় থাকা যেসব চীনা কম্পানির শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়, সেগুলোকে যেন অবিলম্বে বাদ দেওয়া হয় এবং কোনো মার্কিন কম্পানি যেন এদের সাথে ব্যবসা না করে।

পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। এক বিবৃতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছে। চীন জানিয়েছে, তাদের কম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক সব আইন মেনেই ব্যবসা করে। তাই আমেরিকার উচিত এই অন্যায় তালিকা তৈরি বন্ধ করে চীনা কম্পানিগুলোর জন্য একটি সুষ্ঠু ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করা। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আলিবাবা, বিওয়াইডি বা বাইডুর পক্ষ থেকে অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সূত্র : গালফ নিউজ

হরমুজে মার্কিন হামলায় তেলের ট্যাংকারে আগুন, ২৪ ভারতীয় ক্রু উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে মার্কিন হামলায় তেলের ট্যাংকারে আগুন, ২৪ ভারতীয় ক্রু উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মার্কিন হামলায় আগুন লাগা তেলের ট্যাংকার থেকে ২৪ ভারতীয় ক্রুকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (৮ জুন) ওমান কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গণমাধ্যমটি জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার অভিযোগে ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের একটি খালি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জাহাজটি বিকল হয়ে পড়ে এবং এতে আগুন ধরে যায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি মারিভেক্স জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং দিকনির্দেশনা না মানায় বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ থেকে একটি এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান জাহাজটি লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজের ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং রুমে আঘাত হানে, যার ফলে জাহাজটি বিকল হয়ে পড়ে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি ইরানের ওপর চলমান অবরোধ লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছিল।

এদিকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন হামলার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও জানানো হয়েছে যে, জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে ওমান কর্তৃপক্ষের দ্রুত সহায়তায় সম্পূর্ণ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এই উদ্ধার অভিযানের জন্য ওমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আক্রান্ত জাহাজটি ভারতের মালিকানাধীন নয় এবং এটি মার্কিন প্রশাসনের (ওএফএসি) কালো তালিকাভুক্ত ছিল।

সূত্রমতে, জাহাজটি গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন নৌবাহিনীর সতর্কতা এড়ানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছিল। ট্র্যাকিং সিগন্যাল বা লোকেশন ডিভাইস বন্ধ করে ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে জাহাজটি অবরোধ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় এই হামলার শিকার হয়।

পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র এখন বেশি, বলছে গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র এখন বেশি, বলছে গবেষণা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির প্রতিযোগিতা দিন দিন আরো তীব্র হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান ও ইসরায়েলকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিপ্রি)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল জুড়ে ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার আরো বাড়িয়েছে। বর্তমানে ভারতের কাছে পরমাণু বোমার সংখ্যা পাকিস্তানের চেয়ে ২০টি বেশি।

সিপ্রি-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতের কাছে মোট ১৯০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র (ওয়ারহেড) রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি। শুধু তাই নয়, ভারত ইতিমধ্যেই ১২টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র সরাসরি মোতায়েন করে রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই পরমাণু কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এখন আর শুধু পাকিস্তান নয়, বরং পুরো চীনজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করা। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতার বিষয়টিকেও মাথায় রাখছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, পাকিস্তানও বসে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক দশকে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রাগারও আরো বড় হবে।

প্রতিবেদনে গত ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর, মে মাসে পাকিস্তান সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত। সিপ্রি মনে করে, দুই দেশের এই সংঘাত পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্বে বর্তমানে নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই দেশগুলোর কাছে মোট ১২,১৮৭টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বিশ্বের মোট ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৮৩ শতাংশই রয়েছে রাশিয়া ও আমেরিকার কাছে।

সূত্র : মিন্ট

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩ হাজার ছাড়ালো | কালের কণ্ঠ