kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা বহু বছর আগে থেকেই মানবদেহে ছিল?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০২০ ১৫:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা বহু বছর আগে থেকেই মানবদেহে ছিল?

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে এই মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি প্রথম ধরা পড়ে। এরপর মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বলা হচ্ছে, এই ভাইরাসটি কোনো প্রাণী থেকে প্রথমে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে হঠাৎ করেই উহানে মহামারি আকার ধারণ করে। তবে এই ভাইরাস নাকি অনেক আগেই থেকে মানুষের শরীরে ছিল। এমনটাই দাবি করছেন বিশ্বের শীর্ষ ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা।

ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনাভাইরাস যা কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী; সেই ভাইরাসটি কয়েক বছর ধরে এমনকি কয়েক দশক ধরে মানুষের মধ্যে নীরবে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে করোনােভাইরাসটি হঠাৎ করেই মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা ভাইরাসটির বিবর্তনের অতীত সম্পর্কে জানার জন্য বিজ্ঞানীদের দেওয়া বিভিন্ন ক্লু নিয়ে গবেষণা করছিলেন। গবেষণায় তারা দেখতে পান, চীনের উহানে প্রথম সনাক্তকরণের অনেক আগে থেকেই প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে লাফিয়ে ছড়াচ্ছিল এই মারণ ভাইরাস। তবে অন্য সম্ভাবনাও থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, করোনভাইরাসটি একটি অনন্য মিউটেশন বহন করেছিল। আর এটি সন্দেহজনক প্রাণী হোস্টে পাওয়া যায়নি। কিন্তু মানুষের মধ্যে বারবার ও ছোট-ক্লাস্টার সংক্রমণের সময় মিউটেশন হতে পারে। তাই তাদের ধারণা, এই ভাইরাসটি হয়তো অনেক আগে থেকেই মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। 

গবেষণাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিটের ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসন, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রু র‌্যামবাউট, নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ান লিপকিন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডওয়ার্ড হোমস এবং নিউ অরলিন্সের তুলানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট গ্যারি। তাদের গবেষণাটি প্রকাশিত হয় বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচার মেডিসিনে। মার্চ মাসের ১৭ তারিখে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরচিলাক ড. ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, গবেষণায় একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বা দৃশ্যের কথা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসটি মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হওয়ার আগেই প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। তারপর বছরের পর বছর বা সম্ভবত কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ভাইরাসটি শেষ পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার এবং প্রাণহানির হুমকির কারণ হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে।

করোনায় কাঁপছে সারা বিশ্ব। একশ ৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে এই মারণ ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ হাজার নয়শ ৩৫ জন মানুষ। আর আক্রান্ত হয়েছেন ছয় লাখ ৬৫ হাজার নয়শ ৮৫ জন মানুষ। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থও হচ্ছেন অনেক মানুষ। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৪২ হাজার চারশ ৭৯ জন মানুষ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা