kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

নীরব 'করোনা' বাহক নিয়ে নতুন উদ্বেগে চীন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০২০ ২১:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীরব 'করোনা' বাহক নিয়ে নতুন উদ্বেগে চীন

উহান থেকে উৎপত্তির পর বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে নোভেল করোনাভাইরাস। ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ব্রিটেন-সহ বিশ্বের অনেক দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে চীন। একে বিজয় হিসেবেও দেখছে দেশটির সরকার। টানা তিন মাসের যুদ্ধে করোনায় লাগাম পরাতে পেরেছেন শি জিনপিং এর দেশ।

অনেক অঞ্চলে লকডাউনও তুলে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে নতুন করে আবার অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না তাদের।

এ ধরনের রোগীদের নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন দেখা দিয়েছে চীনে। এসব রোগী নতুন করে সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিজেদের অসুস্থতার কথা না জেনেই তারা ফের ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের রোগী ৪০ হাজারের বেশি। এক্ষেত্রে নতুন সংক্রমণ গোপন না করতে দেশের জনগণ ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং।

চীন এখন কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। এরই মধ্যে তারা জনসাধারণের চলাচলের ওপর এতদিনের বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। দুই মাস অবরুদ্ধ করে রাখার পর ভাইরাসের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হুবেইয়ের সীমানা বুধবার খুলে দেয়া হয়েছে।

'লকডাউন' তুলে নেয়ার ফলে এতদিন ধরে ঘরবন্দি উপসর্গবিহীন আক্রান্তরা ফের মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয় কিনা তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণঘাতী রোগ কোভিড-১৯ এর নিয়ন্ত্রণে উপসর্গবিহীন আক্রান্তরাই সবচেয় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হতে পারে। তাদেরকে শনাক্ত করতে না পারলে রোগটির সংক্রমণ বন্ধও কঠিন হয়ে যাবে।

চীনে এ ধরনের উপসর্গবিহীন আক্রান্তের সংখ্যা গোপন রাখা হয়েছে, তাদেরকে আক্রান্তের মোট সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অপ্রকাশিত কিছু নথির সূত্র ধরে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট দেশটিতে উপসর্গবিহীন আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীন মোট ৮১ হাজার ২৮৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানিয়েছে। মৃত্যুর খবর দিয়েছে তিন হাজার ২৮৭ জনের। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। উপসর্গবিহীন এ আক্রান্তদের খোঁজ বের হচ্ছে মূলত শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির ‘সংস্পর্শে আসা’ ব্যক্তিদের পরীক্ষার মাধ্যমে। পরীক্ষায় যাদের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলছে, উপসর্গ থাকুক না থাকুক, তাদের স্থান হচ্ছে কোয়ারেন্টিনে।

ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ২১ হাজার পেরিয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা