kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

চীন করোনাভাইরাস তৈরি করেনি, বিশ্বেও ছড়ায়নি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীন করোনাভাইরাস তৈরি করেনি, বিশ্বেও ছড়ায়নি

চীন জীবাণুযুদ্ধের জন্য নভেল করোনাভাইরাস বানিয়েছিল এমন ধারণা বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইসরায়েলি সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজন আমেরিকান বিজ্ঞানী করোনাভাইরাসকে মারাত্মক রাসায়নিক জৈব অস্ত্র বলে দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক একটি সাংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন আইনজীবী, রাসায়নিক মারণাস্ত্র বিরোধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ড. ফ্রান্সিস বয়েলও করোনাকে জৈব অস্ত্র বলে দাবি করেছেন।

নোভেল করোনাভাইরাস যে রাসায়নিক মারণাস্ত্র, নিশ্চিত করেছেন মার্কিন সিনেটর টম কটনও। তাঁর দাবি, চীন জীবাণুযুদ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও করোনাকে চাইনিজ ভাইরাস উল্লেখ করে একাধিকবার বক্তব্য রেখেছেন।

তবে বুধবার ভারতে চীনা দূতাবাস থেকে এই ধারণার তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং বলেন, 'চাইনিজ ভাইরাস' বা 'উহান ভাইরাস' কথাগুলো কেউ যেন না বলে। চীনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই বরং আমরা যেভাবে দ্রুত মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছি, তা থেকে শিক্ষা নিক সারা বিশ্ব।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ভারত ও চীনের সহযোগিতার ওপরে জোর দেন জি রং। তিনি বলেন, দুই দেশই অতিমহামারি০ রোধে পরস্পরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সকলেই এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। ভারত আমাদের দেশে চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আরও নানাভাবে সাহায্য করেছে।

চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ডব্লিউএইচও ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, উহানে বা চীনের অন্য কোনও জায়গা থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়নি। এসম্পর্কে অনেকের ভুল ধারণা আছে। নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তি কীভাবে হল, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।

গত ডিসেম্বরে শোনা যায়, উহানে সি ফুডের বাজার থেকেই প্রথমে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছিল। জি রং বলেন, চিন ওই ভাইরাস তৈরি করেনি। বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়েও দেয়নি। যাঁরা 'চাইনিজ ভাইরাস'-এরে কথা বলছেন, তাঁরা ঠিক বলছেন না।

মার্চের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেও কোভিড-১৯ কে 'উহান ভাইরাস' বলেছিলেন। তখনই চীন থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, পম্পেও একটা দেশের বদনাম করছেন। এরপরে ডব্লিউএইচও বলেছে, কোনও নির্দিষ্ট দেশ, অঞ্চল অথবা জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে একটি ভাইরাসের উৎপত্তি হতে পারে না।

কয়েক দিন আগে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটা বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে অংশ নেয় নয়াদিল্লিও। এই ভিডিও বার্তাতেই চীনা বিশেষজ্ঞরা করোনা মোকাবেলায় নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এই বৈঠকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেও ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল চীন।

করোনার সংক্রমণ প্রথম মহামারি হয়ে চীনে। হুবেই প্রদেশে শুরু হয় মৃত্যুমিছিল। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে চীনের মূল ভূখণ্ডে। তবে সেই সঙ্কট একটু একটু করে কাটিয়ে উঠেছে চীন। নতুন করে সংক্রামিতের সংখ্যা হাতে গোনা। চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, 'লোকাল ট্রান্সমিশন' কমেছে হুবেই প্রদেশে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলির আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভিড় কমেছে রোগীদের। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে বাড়ি ফিরছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি জারি করে হুবেই প্রদেশে যাতাযাতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, সোমবারের পর থেকেই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার। চীনের মূল ভূখণ্ডের একাধিক প্রদেশেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। চীনে এখনও পর্যন্ত ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার২৭৭ জনের। সংক্রামিত ৮১ হাজার ২৮৫ জন। নতুন করে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে ৬৭ জনের শরীরে। এদের অধিকাংশই বিদেশফেরত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা